আত্মশক্তি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য

অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন প্রভাষক মোঃ আব্দুর রহিম সভ্যতার প্রয়োজনে, মানব কল্যাণে, সম্মান এবং সুস্থভাবে সমাজে বেঁচে থাকতে অর্থাত্ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে মানব জাতি যে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, যোগ্যতা তার কর্ম জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে অধিকতর সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম, তাই শিক্ষা। শিক্ষা এমন একটি কাঠামো, যেখানে ব্যক্তির অন্তর্নিহীত গুণ ও শক্তির সৃজনশীল বিকাশের মাধ্যমে তার শারিরীক, মানসিক, নৈতিক এবং সামাজিক উন্নতি সাধন সম্ভব। শিক্ষার প্রতিটি স্তরই মানবের চিত্তে, দেশ-দশের কল্যাণ, ব্যক্তিগত এবং জাতীয় মূল্যবোধ সৃষ্টির সহায়ক। এই শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, দেশের সামাজিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে কুশলী জনশক্তিতে পরিণত করা। চাহিদা, মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ি জীবিকা অর্জনের উপযোগি জনশক্তি তৈরি করা, প্রাত্যহিক জীবনে উদ্ভুত ও তাত্ক্ষনিক সমস্যাগুলোর সমাধানে দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি করা, ব্যবহারিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রয়োগের আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া। আর এর জন্য প্রয়োজন আত্মশক্তি অর্জন। সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী তাঁর, ‘সুচিন্তা’ নামক গ্রন্থের ‘আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় প্রতিষ্ঠা’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘সিংহ শাবক যে ভেড়া না হইয়া সর্বদাই সিংহ হয়, সে তাহার বিশ্বাসের গুণেই। আর মেষ শাবক যে, সিংহ শাবক না হইয়া মেষ হয়, সেও তাহার বিশ্বাসের গুণে।’ ‘আত্মবিশ্বাস’ মানেই নিজের শক্তির উপর বিশ্বাস। ‘আত্মশক্তি’ মানে নিজস্ব ক্ষমতা। ‘আত্মশক্তি’ অর্জন মানেই, নিজস্ব ক্ষমতা অর্জন, সংরক্ষণ এবং এই ক্ষমতার সুষ্ঠু প্রয়োগ। এই ক্ষমতা অর্জনের মূল চালিকা শক্তিই হচ্ছে শিক্ষা। হীনমনোবল, অধৈর্য, অসহনশীলতা , কর্মদক্ষতার অভাব, প্রবল ইচ্ছার সমন্বয়হীনতা কোন ব্যক্তি মানুষকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। শিক্ষার উদ্দেশ্যই হবে, পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বনির্ভর হওয়া। শিক্ষা মানেই, জানা-শোনা, দেখা, শেখা এবং তা ব্যক্তি জীবনের উন্নয়নে, পারিবারিক স্বার্থে, রাষ্ট্র এবং দেশের কল্যাণে নিরলস ভাবে কাজে লাগানো। যে শিক্ষা মানুষের ভাবিষ্যত্ জীবনে কাজে লাগে না; উপকারে আসে না, সে শিক্ষা অর্থহীন। শিক্ষার সার্থকতা মানেই, ব্যক্তির সার্বিক উন্নয়ন। আর এই উন্নয়নের চালিকা শক্তি আত্মবিশ্বাস।