স্বাধীনতার শ্লোগান
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৩, ১৮:০২
সুমনা আক্তার মীম,
সদস্য নম্বর-১২৭৭
বিজয় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সে বাবা-মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকে। তার দাদা তাকে অনেক গল্প শোনায়। তার দাদা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি তার সময়ের, যুদ্ধের গল্প বিজয়কে শোনান। বিজয়ের তা জানতে খুব ভালো লাগে। সে তার বন্ধুদের সেই গল্প শোনায়। বন্ধুরা শুনতে বেশ পছন্দ করে। একদিন বইয়ের “রাজাকার তাড়াও” একটা গল্প পড়তে গিয়ে বিজয় বুঝতে পারে না। কেন রাজাকার বলা হয়, রাজাকার মানে কী তা জানতে বিজয় দাদার কাছে যায়। রাজাকারের কথা বলতেই দাদা গর্জে উঠেন। দাদা বিজয়কে একটা গল্প শোনায়।
সেটা ছিল ১৯৭১ সাল। দাদাদের গ্রামের অনেক লোক মুক্তিযুদ্ধে গেছে। সেই কথা বাড়ি বাড়ি এসে খবর নেয় গ্রামের কিছু লোক। তারা বাঙালি। কিন্তু শুধু পাকিস্তান, পাকিস্তান করে, উর্দুতে কথা বলে। পাকসেনাদের কাছে যুদ্ধের খবর পৌঁছে দেয়। গ্রামের রহমত মোল্লা সেই ধরনের। বলে উর্দু উর্দু, পাকিস্তান জিন্দাবাদ। বিজয়ের দাদা তখন যুদ্ধে। সে খবর জানার জন্য প্রতিদিনই রহমত আলী মোল্লা আসে, অত্যাচার করে বাড়ির লোকদের। একদিন রাতে রহমত মোল্লা কিছু পাকসেনা নিয়ে দাদার বাড়িতে আসে, জানতে চায় দাদার কথা। কিন্তু বাড়ির কোন লোক মুখ খোলেনি। জয় বাংলার বদলে বলতে বলে পাকিস্তান জিন্দাবাদ। বাঙালিরা তাদের গায়ে থু-থু ছিটিয়ে দেয়। তাই দাদার বাড়ির সবাইকে গুলি করে পাকবাহিনী আর রহমত মোল্লা হাসে কুটিল হাসি।
সেই রাজাকার। বিজয় সব শুনে, বুঝতে পারে দাদার কথা। আর তখুনি পতাকা নিয়ে আসে আর শ্লোগান দেয়—“তুই রাজাকার, তুই রাজাকার, রাজাকারের চামড়া, তুলে নিব আমরা” দাদাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। যোগ দেয় রাস্তার মানুষ, এলাকার লোকজন। শ্লোগানে মুখরিত হয় রাস্তা। সবার মুখে একটাই দাবি, মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে—‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’।