পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ভালো লাগার একটি দিন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যার মাঝেই তাদের জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ রাখে না, আছে বিভিন্ন রকমের বিনোদনসহ ভ্রমণের সুযোগ। ক্যাম্পাস জীবনের বন্ধুরা একে অপরের প্রতি অনেক আন্তরিক। তাই একটু চেষ্টা করলেই অবসর সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ফলপ্রসূ করা যায়। কৃষি ১২তম ব্যাচের কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘুরে এলো ক্যাম্পাস থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময়ের ব্যবধানে সবুজে শ্যামলে ছায়া-সুনিভির ঘেরা এমন একটি খুব কাছের জায়গা বাউফলের নুরজাহান গার্ডেন। এমন মনমুগ্ধকর জায়গা ক্যাম্পাসের এত কাছে আছে তা চোখে না দেখলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কবির ভাষায় বললে এমন, দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। সকাল ৭টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে ১০টার দিকে গাড়ি পৌঁছল গন্তব্যে। একসাথে সবাই যাত্রাপথে গান আর হইহুল্লোড় করে কাটিয়ে দিল সময়টা। পৌঁছার পর এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে সবাই ঘুরতে শুরু করল এদিক-সেদিক। জায়গাটিতে মাটির তৈরি বানর, হরিণ, রাজহাঁস, বাঘ, জিরাফসহ অনেক জীবজন্তুর প্রতিকৃতি ছিল যা সবাইকে অভিভূত করেছে। স্মৃতিপটে আঁকড়ে রাখার জন্য একসাথে সবাই মিলে ছবি তোলা শুরু করল। চারপাশে সবুজে-শ্যামলে ঘেরা গাছপালা এবং মাঝে মাঝে কয়েকটি গেস্ট হাউস ছিল চোখে পড়ার মত। কাঠের তৈরি ৩-৪টি সেতু ছিল পুকুরগুলোর মাঝে যেখানে দাঁড়ালে চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। এরপর সবাই একটা রেস্ট হাউসে একত্রিত হয়ে ধাঁধা, কুইজ, গান, কৌতুক, অভিনয় আর হইহুল্লোড় করতে করতে সকাল গড়িয়ে দুপুর আসলো। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সবাই মিলে বেরিয়ে পরল পাশের আর একটি জায়গা কুমারপারায়। এখানে প্রায় ৫০ এর অধিক কুমার পরিবার আছে যারা অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যেতে অক্ষম। কুমার শিল্প বা কুটির শিল্প বাংলাদেশের একটি চিরাচরিত ঐতিহ্য। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার নারী-পুরুষ এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে কুমারের নিজ হাতের তৈরি সব মাটির জিনিসপত্র দেখে সবাই মনমুগ্ধ। কয়েক জন কুমারের সাথে কথা বললে জানান তারা তাদের শ্রমের প্রকৃত মর্যাদা পাচ্ছে না। কুমার শিল্পের যাতে প্রকৃত মূল্যায়ন হয় সেদিকে সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানান। সেখান থেকে কেউ কেউ আবার মাটির তৈরি জিনসপত্র কিনল। তারপর বিকাল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামে তখন ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। রাতে ক্যাম্পাসে সবাই আবার গলা ফাটিয়ে গান গাইতে গাইতে ফিরে আসে। আর এভাবেই চেনা হল অচেনা জায়গাটি। সৃষ্টি হল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, দূর করে একঘেয়েমি এবং ফিরে এলো মনে প্রাণচাঞ্চল্য যা পড়াশুনার আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে সুদূরপ্রসারী।