চলো যাই আলোর ইসকুলে

বরীন্দ্রনাথের ভুবনভরা আলোয় আমাদের আলোকিত করতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যোগ করছে নতুন স্বপ্ন ‘আলোর ইসকুল’। হূদয়ে আলো ধারণ করে এগিয়ে চলার এ যাত্রায় সঙ্গী হবেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ— ৩৬ বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে যিনি আলোকিত মানুষ গড়ার ব্রতে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। আলোর ইসকুল নতুন এক স্বপ্ন— নিজেকে অতিক্রম করার। কারণ, আমরা নিজেদের অতিক্রম করে বড় জাতিতে পরিণত হতে চাই। খুব ছোট মানুষ দিয়ে বড় জাতি হয় না— দরকার চিন্তা-চেতনা আর মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ। বইপড়া কিংবা জ্ঞানের সমৃদ্ধি সে ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সেই উপলব্ধি থেকে সব বয়সের মানুষের কাছে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা পৌঁছে দেয়ার প্রয়াস আমাদের। এই পথ ধরেই ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যাত্রা শুরু। পূর্ণ বয়স্ক যারা আমাদের আলোর মিছিলে এসেছেন, তারা তো আছেনই, তবে আমাদের সবারই উদ্দেশ্য তরুণদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের এই দেশে আলোকিত মানুষ দরকার, আলোকিত মানুষ চাই আমরা। এ ভাবেই নিজের স্বপ্নের কথা বলেন ‘আলোকিত মানুষ চাই’র স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ইশকুল নাম হলেও এখানে থাকবে না গত্বাঁধা পড়াশুনা। বইপড়া, নাটক দেখা, চিত্রশিল্প, চলচ্চিত্র দলবেঁধে দেখা ও ঘুরে বেড়ানোর ফলে অর্জিত অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান হবে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক আর কেমন লাগলো তা লেখার মধ্য দিয়ে। মানব জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আনন্দময় চর্চা ও উত্কর্ষ আহরণের ভেতর দিয়ে আলোর ইশকুলের সবাই হবেন উদার ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মানুষ। এই ইসকুলের শিক্ষার্থীদের সফলতার জন্য সম্মানসূচক পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকছে। ২০টি চক্র সফলভাবে শেষ করলে পাওয়া যাবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মানসূচক সনদ, সাথে ইসকুলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ, ৫০টি সফলভাবে শেষ করলে সনদসহ রৌপ্যপদক, ৭৫টিতে সফলতা পেলে স্বর্ণপদক, ৯০টিতে সফলতায় থাকছে স্বর্ণপদক ও আলোর ইসকুলের আজীবন সদস্যপদ। এই মার্চেই শুরু হবে আলোর ইসকুলের প্রথম পর্ব। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করা যে-কেউ এই ইসকুলে আসতে পারবেন বিনা পয়সায়। যোগাযোগ করতে হবে ৭ এপ্রিলের মধ্যে। তাই, চলুন আলোর ইসকুলে যাই।