রাজীবপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা

রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের অবাধ্য হয়ে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম মোনাহার আলীকে। আর এই ভালোবাসার মানুষটা যে এত নির্মম হবে তা আগে জানা ছিল না। রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন অবস্থায় কাঁপা কাঁপা গলায় কথাগুলো বলছিলেন স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার সাবানা খাতুন। গত ৯দিন ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে শুধু চোখের জলে বুক ভাসাছেন তিনি। নির্যাতনের শিকার সাবানা খাতুন ও তার অসহায় মা রোকেয়া বেগমের সাথে কথা বলে জানা গেল ১ লাখ টাকা যৌতুক আর একটা টিনের দু’চালা ঘর নির্মাণ করে দেয়ার দাবিতে সাবানার স্বামী, শ্বশুর,শাশুড়ী প্রায়ই নির্যাতন করতো সাবানার ওপর। প্রকাশ, নির্যাতিত সাবানা খাতুনের বাড়ি রাজীবপুর উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামে। সর্বশেষ নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে ১১ মার্চ বিকাল ৪টার দিকে। সাবানা ছিল তার স্বামীর বাড়িতে। ঘরের ভিতর সাবানার মুখে ফুরাডান নামের কীটনাশক ঢেলে দেয়া হয়। গোপনাঙ্গে ঢুকানো হয় ওই কীটনাশক, উদ্দেশ্য পেটের সন্তান নষ্ট করা। সাবানা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে কয় তোকে তো রাখবই না। তাই সন্তানও হোবার দিমু না। সন্তান তোকে নষ্ট করতে হবে। আর যদি না করিস তাহলে তোকেসহ মাইরা ফেলানো হবে।’ উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ রাজীবপুর থানায় মামলা হয়েছে। এএসপি সার্কেল সরোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নির্যাতিতের জবানবন্দি রেকর্ড করে নিয়ে গেছেন। আসামিরা পলাতক।