পুলিশ ব্যস্ত, ‘মধুর সময়’ মাদক ব্যবসায়ীদের!
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৩, ২২:২৬
রাজনৈতিক সহিংসতা ও হরতালের কারণে পুলিশ চরম ব্যস্ত। আর এই সুযোগে ‘মধুর সময়’ কাটছে মাদক ব্যবসায়ীদের! এটাই মাদক ব্যবসায়ের মোক্ষম সময়। পুরনো ‘লোকসান’ পুষিয়ে নিতে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এই কথাগুলো খোদ একজন মাদক ব্যবসায়ীর। তিনি হলেন ফরিদপুরের মধুখালি এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সোমবার রাতে রাজধানীর পল্টন ও হাজারীবাগ এলাকা থেকে ৩ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ আলাউদ্দিন এবং আরো চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অপর চারজন হচ্ছেন যশোর চৌগাছার মোহাম্মদ মাসুম, রাজধানীর পল্লবী এলাকার রহমত বিহারী ক্যাম্পের আজিম, ঝিনাইদহের তারিক ও যশোরের আব্দুল জলিল। পুলিশ তাদের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আলাউদ্দিন জানান, তিনি ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে পুলিশের ব্যাপক তত্পরতার কারণে ঢাকায় ফেনসিডিল তেমন সরবরাহ করতে পারছিলেন না। তাছাড়া এ সময় পুলিশের হাতেও তার বেশ কয়েকজন সহযোগী ধরা পড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে পুলিশ রয়েছে মহাব্যস্ত। আর সুযোগটাকে তারা ব্যবহার করা চেষ্টা করছিলেন। গত এক মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে চারটি ফেনসিডিল চালান ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি। কোন ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়নি তাকে। তবে তিনি বলেন, তারা মূলত ফেনসিডিল ‘বহনকারী’। ‘ব্যবসায়ীরা’ অধিকাংশই সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা। প্রতি বোতল ফেনসিডিলের জন্য বহনকারীরা কমিশন পেয়ে থাকেন।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। তারা সীমান্ত এলাকা হতে ফেনসিডিল এনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব ও রায়েরবাজার এলাকায় মাদক আস্তানায় পৌঁছে দিত। অপর সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডিবির এসি এ, কে এম মাহবুবুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ৮টার দিকে পল্টন এলাকার ইষ্টার্ন প্লাস মার্কেটের সামনে প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার করা হয় আলাউদ্দিন, মাসুম ও আজিমকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮শ’ বোতল ফেনসিডিল। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে ঐ দিন রাত ১১টার দিকে হাজারীবাগস্থ শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় তারিক ও জলিলকে। তাদের ব্যবহূত প্রাইভেটকার তল্লাশী করে উদ্ধার করা হয় ১২শ’ বোতল ফেনসিডিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিলের আরও একটি বড় চালান ঢাকায় আসার কথা ছিল। ঐ ফেনসিডিল ট্রাক থেকে নামানোর জন্য তারিক ও জলিল হাজারীবাগে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ফেনসিডিলের চালান ঢাকায় পৌঁছার আগেই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় পল্টন ও হাজারীবাগ থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।