আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে :ফখরুল

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের দুর্বার আন্দোলন তীব্র থেকে আরো তীব্রতর হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তবে বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন আওয়ামী লীগের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। কিন্তু এভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। বর্তমান সরকারের বেপরোয়া জুলুম, নিপীড়নের প্রতিবাদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। তাই এ সরকারের উচিত্ পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তা না হলে জনগণ এ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবে। এ সময় তিনি দাবি করে বলেন, সারাদেশে আওয়ামী সরকার পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসী দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। তল্লাশীর নামে পুলিশ দিয়ে বিএনপির নেতাদের বাসায় ভাঙচুর চালাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কোন ওয়ার্নিং ছাড়াই পুলিশ হামলা চালাচ্ছে। অতর্কিত গুলি চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করছে। তিনি আরো জানান, গতকাল মঙ্গলবারের হরতালে সারাদেশে ৪ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার ও ৩ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গত ১৭ মার্চ থেকে গ্রেফতার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া সারাদেশে ১৮ দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৪ সহস্রাধিক মামলা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। গত ১৭ মার্চ থেকে গত দুইদিনের হরতাল পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগের ভেতরে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা দিতে বিএনপির প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর আহবানের প্রতিক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এটা তো তথ্যমন্ত্রীর ভালোই জানা আছে। তিনিই তো তালিকা দিতে পারেন। ‘বিএনপির যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে, তাদের সবাইকে আদালতে হাজির করা হবে’ তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ৫৭টি মামলা আছে। মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা তো এই সরকারের অন্যতম কাজ। জাতীয়তাবাদী শক্তি এতে ভয় পায় না। দুদিনের হরতালে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া জোটের অন্য ১৬টি শরিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি, এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘শরিকেরা মাঠে ছিল। হরতাল সফল করতে তারা কাজ করেছেন। বিএনপির অনেক নেতা হয়তো মিছিল বা পিকেটিংয়ের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের ফোন করেন। এ জন্য তাদের দেখা যায়। অন্যরা এটা করেন না, তাই হয়তো তাদের দেখেননি। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ, পিপলস লীগ মহাসচিব সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, জাগপার সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান প্রমুখ।