মু খো মু খি

নিজের স্বার্থের জন্যই নাটক করছি

আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। ‘পরিচয়’ ছবিটির শুটিংয়ের জন্য আগামীকাল কলকাতা যাচ্ছি। ছবির এবারের লটে আমার আর বোম্বা দার একটা পার্ট আছে, যেখানে আমাদের সেপারেশন হয়, ওইটার কাজ করব এবার। আর দুইদিন আগে ‘মায়ানগর’ নামের একটি ছবির মহরত করলাম। কলকাতা থেকে ফিরে এসে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ‘মায়ানগর’-এর কাজ শুরু করব। তারপর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘মায়ের মমতা’ ছবিতে কাজ করব। ‘পদ্মা পাড়ের পার্বতী’ ছবিটির কাজ চলছে। পাশাপাশি রাজু ভাইয়ের ‘তবুও তুমি আমার’ ছবিতেও কাজ করব। আর খুব শীঘ্রই হয়তো মুক্তি পাবে ‘এইতো ভালোবাসা’ ছবিটি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তো এখন আপনি অনেকটা নিয়মিতই ছোটপর্দায় কাজ করছেন। এর উদ্দেশ্যটা কী জানতে পারি? বাংলাভিশনে নিয়মিত আমার ‘রেড সিগন্যাল’ নামের একটা ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে, মোশাররফ করিমের সঙ্গে। তার সঙ্গে আরও একটা ধারাবাহিক করলাম, ‘নাটাই পাড়া বনাম ঘুড্ডি পাড়া’, এটি এশিয়ানে এ মাসের মধ্যেই প্রচার শুরু হবে। সিরিয়ালটা করার কারণ অবশ্যই আছে, কারণ হলো যে, অনেক দিন ধরেই কলকাতায় কাজের একটা কথা ছিল। সেখানে কিন্তু ডিরেক্ট টেক হয়, সেজান ভাইয়ের সাথে কাজ করতে গিয়ে অনেকটা নিজের স্বার্থের জন্য কাজ করছিলাম। তার স্ক্রিপ্ট অনেকটা সেটে বসেই হয়, একসঙ্গে সবাইকে নিয়ে সেজান ভাই সেমিনারের মতো বসেন, সেইখানে বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঘটনা কী হবে। আর সেই ঘটনার উপরই আমরা শুটিং করি। ওইভাবে স্ক্রিপ্ট নিই। আর এটা আমার শেখার প্রয়োজন ছিল কলকাতার ছবিটির জন্য। শাবনূর-মৌসুমীর পর এ পর্যন্ত অনেক চিত্রনায়িকাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন। কিন্তু তারা কেউ শাবনূর- মৌসুমী বা শাবানা-ববিতার মতো জনপ্রিয় হতে পারেননি। এর কারণটা কী বলে মনে হয়? আসলে শাবানা আন্টিদের একটা সময় ছিল, যেই সময়টাতে একটাই বিনোদনের মাধ্যম ছিল সেটা হচ্ছে সিনেমা। শাবনূর-মৌসূমী আপুরা যখন স্টার্ট করে তখনও সিনেমাই প্রধান ছিল। তখন স্যাটেলাইট প্রচলনও শুরু হয়। তবে সবার নাগালে ছিল না। আর এখন, পুরোদমে স্যাটেলাইট চলছে। স্যাটেলাইটেরই সময়। তার উপরে দীর্ঘ কয়েক বছর সিনেমার দুরবস্থা ছিল। এই সময়টাতে শাবনূর, মৌসুমী, পূর্ণিমা আপু অনেকটা বসেছিলেন। আর এই সময়েই অনেক দর্শক হলবিমুখ হয়ে যায়। আর এটা শাবনূর-মৌসুমীর মতো তারকাদের জন্য বিশাল গ্যাপ সৃষ্টি করে দেয়। সেই জায়গা থেকে আবার রি-গেইন করে এসে কাজ করছে এটাই মনে করি অনেক বড় বিষয়। আমাদের দেশের বাইরেও শাবনূর-মৌসুমী স্টাবলিশ, বিশেষ করে বাংলা কমিউনিটিতে। আমাদের দেশের চিত্রনায়িকারা ফিটনেসের ব্যাপারে অতটা মনোযোগী না, তাদের চেয়ে মনোযোগী নাটকের তারকারা। এই অমনোযোগী হওয়ার কারণটা কী বা কেন? যেখানে আমাদের আশপাশের দেশে লক্ষ করলে দেখা যায় অনেক তারকারা নিয়মিত ফিটনেস টিপস নিয়ে বিভিন্ন ডিভিডিও বাজারে ছাড়ছে। আমাদের অনেক আগে থেকে যদি দেখে আসেন তাহলে দেখবেন—শাবানা আন্টি, মৌসুমী আপু, শাবনূর আপুদের ওই টাইমটায় বাংলাদেশে কিছুটা বাল্কি চলত। অনেক আগে থেকেই দেখা গেছে একটু হেলদি ছিল তারা। টিভিতে এখন যেই ফিটনেসের বিষয়টা খেয়াল করা যায় এটা কিন্তু খুব বেশি দিনের না। সুবর্ণা আপু বা তাদের পরের জেনারেশনের যারা কাজ করেছেন তারা অনেক স্মার্ট ছিলেন। কিন্তু এখনকার বিষয় আলাদা, সবাই নিজের ফিটনেস নিয়ে খুব সচেতন। এখন মৌসুমী আপু নিজের ফিটনেসে অনেক ফিটফাট হয়ে গেছেন, পূর্ণিমা আপুকে দেখলে অবশ্যই অ্যাপ্রিশিয়েট করার মতো। এমনকি আমি নিজে খুব ফিটনেস সচেতন।