সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ

রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিরিয়ার সরকার ও বিরোধীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে রাসায়ানিক অস্ত্রের হামলা চালিয়ে প্রাণহানির অভিযোগ করেছে। ঐ হামলায় ৩১ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে সিরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংসের’ হাত থেকে বাঁচাতে আন্তর্জাতিক মহলকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আবারো আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। সিরিয়ায় আলেপ্পোর কাছে প্রাণঘাতী রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা নিয়ে সরকার ও বিদ্রোহীপক্ষ মঙ্গলবার একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করেছে। এ ঘটনা সত্য হলে সিরিয়া যুদ্ধের দুই বছরের লড়াইয়ে এটিই হবে প্রথম রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার। সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী ওমরান আল জোয়াবি বলেছেন, বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর দক্ষিণ-পশ্চিমে খান আল আসাল শহরে বিষাক্ত গ্যাস ভরা রকেট ছুঁড়েছে। শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নাইরাব থেকে এ রকেট ছোঁড়ে তারা। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, রাসায়ানিক হামলায় ১০০ জনেরও বেশি আক্রান্ত হয় এবং এদের মধ্যে বেশ কিছু মানুষের অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে ঊর্ধ্বতন এক বিদ্রোহী কমান্ডার এবং সামরিক পরিষদের মুখপাত্র কাশিম সাদেদ্দিন তথ্যমন্ত্রী জোয়াবির অভিযোগ অস্বীকার করে এ হামলার জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারি বাহিনীকে দায়ী করেছেন। আলেপ্পো থেকে টেলিফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা সকাল থেকেই খান আল আসালে সরকারি বাহিনীর হামলার খবর শুনছি। তারা এ হামলার খবর আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার করছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের ধারণা, তারা রাসায়নিক উপাদান সম্বলিত স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। সিরিয়ায় মঙ্গলবারের রাসায়নিক হামলা সম্পর্কে পশ্চিমা কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংগঠন তাত্ক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। তবে সিরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া এ হামলায় ১০ সেনা এবং ২১ বেসামরিক নাগরিকসহ ৩১ জন নিহত হওয়ার কথা বলেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাসায়নিক অস্ত্র বিদ্রোহীদের হাতে চলে যাচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সোমবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সিরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংসের’ হাত থেকে বাঁচাতে আন্তর্জাতিক মহলকে অবশ্যই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিগত দু’বছর প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সামরিক বাহিনীর চালানো ‘নিষ্ঠুর দমন পীড়নের’ নিন্দা জানিয়ে বান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ বিশ্ববাসী আতঙ্কের সঙ্গে ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করছে’ এবং এর জন্য যারা দায়ী তাদেরকে অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সিরিয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বান নতুন করে আবারো আহ্বান জানান।