ইটালির বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ সোনিয়া গান্ধির
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৫
ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির সভানেত্রী ইটালীয় বংশোদ্ভূত সোনিয়া গান্ধি মঙ্গলবার জামিনে থাকা দুই ইটালীয় নৌ-সেনাকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলেছেন। সোনিয়া গান্ধি কংগ্রেস পার্টির এক সভায় বলেন, হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই ইটালীয় নৌ-সেনার ভারতের কাছে প্রত্যার্পণ নিশ্চিত করতে তিনি যে কোনো পদক্ষেপের পক্ষে। নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সোনিয়া বলেন, ‘দুই নৌ-সেনা প্রশ্নে ইটালি সরকারের হঠকারিতা এবং সুপ্রিম কোর্টের কাছে এর একটি অঙ্গীকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা স্পষ্টত অগ্রহণযোগ্য।’ এদিকে ইটালি অভিযোগ করেছে যে, রাষ্ট্রদূত দানিয়েল মানচিনিকে দেশ ছাড়তে বাধা দিয়ে ভারত কূটনৈতিক দায়মুক্তি লংঘন করেছে। সোনিয়া তার বক্তৃতায় বলেন, সুপ্রিম কোর্টে দেয়া ইটালি সরকারের অঙ্গীকার রক্ষা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালাতে হবে।
ভারতীয় মত্স্যজীবী খুনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন ইটালির রাষ্ট্রদূত দানিয়েল মানচিনি। সোমবার সর্বোচ্চ আদালত জানায়, এই ঘটনায় মানচিনি ইতোমধ্যেই তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। কাল সর্বোচ্চ আদালতে একটি হলফনামা পেশ করে মানচিনি দাবি করেন ভিয়েনা চুক্তি অনুযায়ী তার সম্পূর্ণ আইনি রক্ষাকবচ আছে। কিন্তু এই দাবি খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়, যে ব্যক্তিকে আদালতে হলফনামা পেশ করতে হয়, তার কাছে কোনো রক্ষাকবচ থাকতে পারে না। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ইটালির রাষ্ট্রদূত এই দেশ ছেড়ে যেতে পারবেন না বলেও জানানো হয় আদালতের পক্ষ থেকে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি এপ্রিলের দুই তারিখ।
গত ১৪ মার্চ ইটালির রাষ্ট্রদূতকে ভারত না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশিকায় বলা ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমা ২২ মার্চের মধ্যেই দুই নাবিককে ভারতে প্রত্যার্পণের বিষয়ে মুচলেকা দিতে হবে তাকে। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের দেয়া সময়সীমার মধ্যে অভিযুক্ত দুই নাবিককে ইটালি সরকার হস্তান্তর না করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে এ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইবুনালে যেতে পারে ভারত। ইটালিতে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে ২২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত দুই নাবিককে দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।