পাঁচ বছরেও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় শিক্ষিকার মামলা
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৩, ২১:১৪
পাঁচ বছর চাকরি করার পর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি তার চাকরি স্থায়ী না করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অন্য দুজনকে বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক দেখানোর অভিযোগে মামলা (নং ৩৩/২০১৩ইং) করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা ছামিয়া আক্তার। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত বীরঘোষপালা নিবন্ধিত বেসরকারি (সদ্য সরকার ঘোষিত) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
মামলায় তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সাবেক সভাপতি, বর্তমান প্রধান শিক্ষক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আটজনকে বিবাদী করেছেন। আদালত শিক্ষিকার মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদীদের প্রতি কারণ দর্শনোর নোটিস জারি করেছেন। ছামিয়া আক্তারকে ‘প্যারা শিক্ষক’ হিসেবে ২০০৭ সালের ১ জুন নিয়োগ দেয় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। সম্প্রতি এ বিদ্যালয়টি সরকারি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ছামিয়া জানতে পারেন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি মো. মাসুদুল হকের স্বাক্ষর করা নিয়োগপত্র দেখিয়ে জেসমিন নাহার ও জাহাঙ্গীর হোসেন ভুঁ্ইয়া নামে দুজন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দাবি করছেন।
ছামিয়া অভিযোগ করে বলেন, ওই দুজনকে আগে বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীরাও তাদের দুজনকে চেনে না। এখন তাদের নিয়োগপত্র সংক্রান্ত কাগজপত্রে পেছনের তারিখ বসিয়ে বৈধ করার জন্য স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে মহলটি। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পেয়ে ন্যায় বিচারের আশায় মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।
সম্প্রতি বীরঘোষপালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন ভুঁইয়াকে কর্মরত পাওয়া যায়। তবে জেসমিন নাহারকে পাওয়া যায়নি। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, জেসমিন নাহার নামে কোন ম্যাডামকে তারা দেখেনি। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে তারা ছামিয়া ম্যাডাম ও আব্দুল হককে পেয়েছেন। জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, ২০০৭ সালে ২০ ডিসেম্বর থেকে এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মরত। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মাসুদুল হক বলেন, বিধি অনুযায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ভুঁইয়া ও জেসমিন নাহারকে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওই নিয়োগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চূড়ান্ত না করায় তাদের বেতনভাতা পাওয়া নিশ্চিত ছিল না। এ কারণে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়মিত ছিল না। ছামিয়া আক্তারের বিষয়টি তিনি জানেন না।