দৌলতদিয়ায় ৩ কি.মি.
জুড়ে যানজট
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৩, ২২:১৮
টানা দুই দিন হরতালের পর অসংখ্য যানবাহন ঘাটে প্রবেশ এবং ফেরির সংখ্যা কমে যাওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে তিন কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাস যাত্রী ও চালকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
বিআইডব্লি¬উটিসি দৌলতদিয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির জটও বাড়তে থাকে। টার্মিনালে পণ্যবাহী গাড়িসহ মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রাতে আটকে থাকা অসংখ্য গাড়ি সকালে পার হয়। গতকাল বুধবার ফেরিঘাট থেকে মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে পণ্যবাহী শত শত ট্রাক ও দূর পাল্ল¬ার বাসের তিন/চার সারি দেখা গেছে। এসময় অনেক যাত্রীই বাস থেকে নেমে প্রায় দুই/তিন কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছায়।
যশোর থেকে ছেড়ে আসা বাস চালক আলাউদ্দিন মিয়া জানান, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ঘাটে পৌঁছেন। বিকাল সাড়ে পাঁচটা বাজলেও এখনো ফেরি ঘাটের কাছেই যেতে পারেননি। সাতক্ষীরা থেকে পিঁয়াজ বোঝাই করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে আসা ট্রাক চালক হেবলু শেখ জানান, সকালে ঘাটে এসে যানজটের কবলে পড়ি। একে একে গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকলেও আমরা যেখানে ছিলাম এখনো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি। মনে হচ্ছে না আগামী দুইদিনে ঘাট পাড় হওয়া যাবে। বেনাপোল থেকে আসা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সৌদিয়া বাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. সুমন জানান, যানজটের কারণে আজ রাতে পার হওয়া নিয়ে যথেষ্ট শংকার মধ্যে রয়েছেন তারা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণ্ডল ক্যানাল ঘাটে যানজট নিরসনে তদারকির সময় জানান, ফেরি সবগুলো একত্রে চললে যানজটের কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। ফেরি বাড়ানোর ব্যাপারে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান একাধিকবার ঘোষণা দিলেও আজ অবধি তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বিআইডব্লি¬উটিসি দৌলতদিয়া অফিসের এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, টানা হরতালের পর গত মঙ্গলবার রাত থেকে ঘাটে গাড়ি বাড়তে থাকে। আবার আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় হরতালের আশঙ্কাতেও দক্ষিণাঞ্চল থেকে অনেক গাড়ি আসতে শুরু করেছে। এছাড়া এই রুটে ৮টি রোরো ও তিনটি কে-টাইপ ফেরি চললেও রবিবার বিকাল থেকে রোরো ফেরি শাহ পরান বিকল থাকায় সংকট বেড়েছে।