মুন্সীগঞ্জে শতাধিক একর জমি হঠাত্ বিলীন হলো মেঘনাগর্ভে

মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষা চরকিশোরগঞ্জে আকস্মিক ভূমি ধসে শতাধিক একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। বুধবার দুপুরে বিশাল এলাকা জুড়ে দেবে যাওয়ার দৃশ্য দেখে লোকজন হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। এই সময় আতঙ্কিত কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। কিছু বুঝে উঠার আগেই গ্রামবাসীর চোখের সামনে আবাদি, অনাবাদি ও তিন ফসলী বিস্তীর্ণ জমিগুলো বিলীন হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে রবি ফসলের বিশাল বিশাল বাগান ছিল। সেখানে এখন অথৈ পানি। সবুজের মেলায় এখন মেঘনার বড় বড় ঢেউয়ের দাপাদাপি। ৭ বছর আগেও এখানে আরেকবার একই ভাবে আকস্মিক ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছিল। বিলীন হওয়া জমিতে পটল, আলু, পিঁয়াজ, সরিষা, মরিচসহ রবি ফসল ছিল। কৃষকরা দাবি করেন, মেঘনার বালু ইজারাদাররা অপরিকল্পিতভাবে তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলনের কারণেই এই বিপর্যয়। মধ্য মেঘনায় বালু মহালের নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা থাকলেও তা মানছে না ইজারাদাররা। তীর ধরেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বালু উত্তোলনের সময় নির্ধারণ থাকলেও দিনরাত সমানে বালু উত্তোলন চলছে। তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বালু মহাল ইজারাদার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, নদীর মোহনায় এই এলাকাটির অবস্থান হওয়ায় রাতের আঁধারে একটি গ্রুপের বালু চুরির কারণে ভয়াবহ ভূমি ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। বাজারজাত করার জন্য বস্তাবন্দি করে রাখা প্রচুর আলুও হারিয়ে গেছে পানিতে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ভূমি ধসের কারণ আমরাও সঠিকভাবে বলতে পারছি না। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, কি কারণে এই ভূমি ধস হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগটি সত্য হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।