জীবন খেয়ায় মৃত্যুর আবাহণ

জীবনের জয়যাত্রায় মৃত্যুর বিভীষিকা এড়িয়ে চলার উপায় থাকে না।জীবন খেয়ায় আাাসলে যে মৃত্যুর আবাহণ হয় তা বোঝা যায় না।মানুষের জন্ম যেমন জীবনের অংশ, মৃত্যুও তেমন জীবনের বাইরের বিষয় নয়।বরং মৃত্যু একটি চিরন্তন বাস্তবতা ও জীবনের বিপরীত ধারনা। কেননা, অমরত্বের সাধ-সাধনা অসম্ভব জেনেও বলব: মৃত্যুর সুযোগ না থাকলে— বেঁচে থাকাই ক্লান্তিকর বোধ হবে। তাই তো জীবন চলার বাঁকে মোড়ে সুখ-দুঃখের অভিজ্ঞতায় সম্মৃদ্ধ মানুষ ব্যধি ও জরাগ্রস্থ হয়ে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায় ও যাচ্ছে। আল্লাহ্ বলেন:“তিনি দূর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন;তারপর দূর্বলতার পর শক্তি দেন ,আবার শক্তির পর দেন দূর্বলতা ও বার্ধ্যক্য (রূম:৫৪)। এভাবেই মানুষের জীবন খেয়ায় চলে মৃত্যুর আবাহণ।উত্পন্ন পণ্যের গায়ে যেমন মেয়াদ লেখা থাকে তেমনি আমাদের ভাগ্যলিপির অদৃশ্য লিখনে মরণের স্থান ও ক্ষণ লেখা থাকে অথচ তা জানার উপায় নেই। তাই ভাল কিছু করবার চেতনায় জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় এবং জীবনের তাত্পর্য এখানেই।মহান আল্লাহ্ বলেন—“যিনি মৃত্যু ও জীবনকে সৃষ্টি করেছেন কে সত্কর্ম করে তা পরীক্ষা করবার জন্য”। (মুল্ক:০২) মৃত্যুর স্বাদকে এড়িয়ে যাওয়ার কোন পথ নেই বরং মরণের অনুগামী প্রতি প্রাণ ও প্রত্যেকেই।কেননা,মৃত্যু একটি নিত্য ও সত্য বিষয়।অন্যদিকে প্রাত্যহিক ‘শোক সংবাদ’ জীবনের মূহুর্ত গুলোকে ব্যবহারের শক্তি জোগায়।এভাবেই জীবন নদীর বয়ে চলায় বাঁচার আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রাম এক আশ্চর্যজনক বাস্তবতা। অথচ আল— কুরআনের বিখ্যাত বাণী:‘কুল্লু নাফিসন যায়িকাতুল মাউত’ (সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে। আল—ইমরান:১৮৫)। মৃত্যুকে অস্বীকার করা যায় না,পালানোর পথও নেই, ইতর বা ভদ্র প্রাণি অথবা ধার্মিক ও বিধর্মী কেউ মৃত্যু সীমার বাইরে নয়। কেউ চাইলে আল্লাহ্র সব হুকুম ও শক্তিকে অস্বীকার করতে পারে কিন্তু তারপরও তাকে মৃত্যুর কূলে জীবনের তরী ভেড়াতে হবেই।মহান আল্লাহ্ বলেন “তোমরা যে মৃত্যু হতে পালাতে চাও,তোমাদের সেই মৃত্যুর সামনে যেতেই হবে” (জুমআ: ০৮)। মরণের জন্য স্থান কাল ব্যস্ততা-বাস্তবতা,বয়সের পরিসংখ্যান বা গড় আয়ু তত্ত্ব সবই মিথ্যা ও অনিত্য। সব সীমারেখাকে অগ্রাহ্য করে মৃত্যু অনিবার্য বিষয়।