দেখা হয় নাই
সংশপ্তক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৩, ১৯:৪৬
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্কর্য ‘সংশপ্তক’-এর কথা।
আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এদেশের বিভিন্ন স্থানে যে কয়টি ভাস্কর্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তারই একটি হলো ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত ভাস্কর্য সংশপ্তক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার চত্বরে ১৯৯০ সালে স্থাপন করা এই ভাস্কর্যটির স্থপতি ছিলেন হামিদুজ্জামান খান। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে এতে দৃশ্যমান করা হয়েছে। যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও লড়ে যান যে অকুতোভয় বীর তিনিই সংশপ্তক। ঠিক একইভাবে মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করা যাদের স্বপ্ন, শত্রুর বুলেটের সামনেও জীবন তাদের কাছে তুচ্ছ। মূলত এই চেতনাকে ধারণ করেই নির্মিত হয়েছিল সংশপ্তক নামের এই ভাস্কর্যটি যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত, এক পা হারিয়েও রাইফেল হাতে লড়ে যাওয়া এক বীরের প্রতিকৃতি। মূল ভূমি থেকে ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৫ ফুট। মূল ভাস্কর্যটি ব্রোঞ্জ ধাতুতে তৈরি। এ ছাড়া এটি নির্মাণে লাল সিরামিক ইট ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পী হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের শরীরে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। লাল ইটের শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধার এই প্রতিকৃতি একদিকে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ় মনোবল আর ভিত্তিভূমির কথা মনে করিয়ে দেয় অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধার ব্রোঞ্জের অবয়বে প্রতিফলিত আলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় চেতনার শ্বাশ্বত বিচ্ছুরণের কথা।