বেইলআউট সংকট নিয়ে আলোচনায় সাইপ্রাস
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৪
আন্তর্জাতিক বেইলআউট চুক্তি পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কি করণীয় তা নিয়ে বুধবার সঙ্কটকালীন আলোচনায় বসেছেন সাইপ্রাসের নেতারা। ইইউ ও আন্তর্জাতিক দাতা তহবিল সাইপ্রাসের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংক থেকে কর আদায়ের শর্তে ১০০০ কোটি ইউরো ঋণ সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এই শর্তানুযায়ী ব্যাংক ডিপোজিট থেকে সাইপ্রাস সরকারের কর আদায়ের সিদ্ধান্তের কারণে হঠাত্ করে ইউরোর দাম পড়তে শুরু করে। বেইলআউট সুবিধাপ্রাপ্ত ইউরোপের বাকি দেশগুলোকে এভাবে কর দিতে চাপ দেয়া হয়নি। ফলে সাইপ্রাস সরকারের কর দেয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সাধারণ মানুষ। পার্লামেন্টেও প্রত্যাখ্যাত হয় নজিরবিহীন এ বেইলআউট চুক্তি। কিন্তু এ চুক্তি অনুমোদন না পাওয়ায় ঋণ জর্জরিত ইউরোজোনের অন্যান্য দেশ গ্রিস, পর্তুগাল, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং ইতালির মতো কৃচ্ছ পদক্ষেপের হুমকির মুখে পড়ল সাইপ্রাস। নতুন করে সঙ্কট জর্জরিত হলো ১৭ জাতি ইউরোজোন।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস এনাসটাসিয়াডেস একটি বিকল্প ‘বি পরিকল্পনা’ বের করার জন্য পার্টি নেতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠক করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গেও আলোচনা করবেন। জার্মানি ইতোমধ্যেই বলেছে, বেইলআউট নিয়ে সমঝোতা না হলে ব্যাংকগুলো আর নাও খুলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সাইপ্রাসের অর্থমন্ত্রী মিকালিস সারিস মস্কোয় গেছেন রাশিয়ার কাছ থেকে সহায়তা চাইতে।
সাইপ্রিয়ট ব্যাংকগুলোতে রাশিয়ার কয়েকশ’কোটি ডলারের বিনিয়োগ ডিপোজিট থাকায় দেশটি তা রক্ষায় কোনো উদ্ধার পরিকল্পনা দিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়াকে বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো ঋণের মেয়াদ ৫ বছরের জন্য বাড়ানো এবং একইসঙ্গে সুদের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে সাইপ্রাস। তবে এ ব্যাপারে আশাবাদী হলেও এখনো কোনো আশ্বাস মেলেনি বলেই জানিয়েছেন সাইপ্রাসের অর্থমন্ত্রী।