মোবাইল সিম ও যন্ত্রাংশ আমদানি কমার প্রভাব রাজস্বে

চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও সিম আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ক্যাটাগরি ভেদে ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। সেই সাথে ৩ ও ১২ শতাংশ শুল্ক ক্যাটাগরির পণ্য আমদানিও কমেছে। এর ফলে শুল্ক আদায় কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাত থেকে আদায় কমেছে প্রায় সোয়াশ কোটি টাকা। এর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। উল্লিখিত সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শুল্ক আদায়ে এক হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় সম্প্রতি এনবিআরের শুল্ক বিভাগের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে শুল্ক কমার জন্য অলোচ্য কারণগুলোকে দায়ী করা হয়েছে। সেই সাথে প্রতিবেদনে শুল্ক আদায় বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি সুপারিশও করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবাইল ফোনের সিম কার্ড, যন্ত্রাংশের আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া তিন, পাঁচ ও ১২ শতাংশ শুল্ক ক্যাটাগরির পণ্য আমদানিও কমেছে বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায়। আবার কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেফার্ড পেমেন্টের ভিত্তিতে পণ্য চালান খালাস করায় মাস ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শুল্ক আদায়ে হেরফের হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে শুল্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে শুল্ক সংক্রান্ত অনিষ্পন্ন মামলাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পতির (এডিআর) মাধ্যমে নিষ্পত্তির উপর জোর দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১৮ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে এক হাজার ৬৮ কোটি টাকা। আদায় কমে যাওয়ায় চিন্তিত অর্থমন্ত্রীও। সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সাথে এক বৈঠকে তিনি শুল্ক ও ভ্যাট আদায় কমে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন। এ অবস্থায় শুল্ক ফাঁকি রোধে শুল্ক স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়াতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত হারে শুল্ক ফাঁকি উদঘাটনে ব্যর্থতাকে দুষছেন কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, কাস্টম হাউজগুলোতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকানোর ব্যর্থতায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে শুল্ক খাত থেকে।