খাগড়াছড়িতে প্রত্যাগত শরণার্থীদের
মানবেতর জীবনযাপন
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ও পানছড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৯
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ১৯৯৪ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাগত ২০ হাজার উপজাতীয় শরণার্থী পরিবার সরকার ঘোষিত প্যাকেজ চুক্তির সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। জানা গেছে, ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জাতিগত দাঙ্গার কারণে উপজাতীয়রা দলে দলে ত্রিপুরা রাজ্যে পালিয়ে গিয়ে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়েও সরকার ত্রিপুরা থেকে শরণার্থীদের ফেরত আনতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে দীর্ঘ ৫ বছর পর তত্কালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগ কর্তৃক সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমার নেতৃত্বে ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে মর্মে ঘোষণা দেয়া হলে শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরতে শুরু করে। সরকারের ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি পেয়ে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ১৯৯৭ সনের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি উপজাতীয় পরিবার দেশে ফেরে। তত্মধ্যে দীঘিনালায় ৩৭০ পরিবার ও পানছড়ি উপজেলায় ১ পরিবার চুক্তির আওতায় সুযোগ-সুবিধা পেলেও অজ্ঞাত কারণে আরো প্রায় বিশ হাজার উপজাতীয় শরণার্থী পরিবার এ সকল সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত। এদিকে মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় বিশেষ করে ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য সমপ্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারের নিকট আবেদন জানিয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি। স্বেচ্ছায় প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ কমিটির সভাপতি খগেশ্বর ত্রিপুরা ও সম্পাদক সুপ্রিয় চাকমা জানান, সরকারের প্যাকেজ চুক্তির আওতায় সকল শরণার্থী ভারত থেকে প্রত্যাবর্তন করলেও শুধুমাত্র ৩৭১ জন পরিবারকে রেশনসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রধান করা হচ্ছে। অজ্ঞাত কারণে বাকিরা রেশনসহ ২০ দফা প্যাকেজের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।