বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত
ব্রিটিশ যুবকের
প্রতিবাদ
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৩, ২৩:০৯
যুদ্ধাপরাধী এবং ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যায় অভিযুক্ত চৌধুরী মাঈনুদ্দিনকে ব্রিটেনে বসবাস করতে দেয়ার প্রতিবাদে এক অভিনব কর্মসূচি নিয়েছেন ব্রিটিশ বাঙালি যুবক সাজ্জাদুল আজিজ মালিক। ব্রিটেনে জন্ম নেয়া এই যুবক ম্যানচেষ্টারের ওল্ডহাম শহর থেকে লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ১০ ডাউনিং স্ট্রিট পর্যন্ত প্রায় ৩শ মাইল পায়ে হেঁটে গণসংযোগ করবেন। এসব গণসংযোগে সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসহ একটি স্মারকলিপি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে পৌঁছে দিবেন। গত ২০ মার্চ বুধবার ম্যানচেষ্টারের ওল্ডহাম শহরে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তিনি এ প্রতিবাদী যাত্রার সূচনা করেন। কয়েকটি শহর প্রদক্ষিণ করে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এ স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
৩৬ বছর বয়সী সাজ্জাদুল আজিজের জন্ম ইংল্যান্ডের ওল্ডহাম শহরে। বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জ উপজেলার ছাতক থানার পালপুর গ্রামে। তার পিতার নাম আবদুল মালেক। সাজ্জাদুল তার এ প্রতিবাদী কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘ওয়াকিং ফর জাস্টিস’। তার এ উদ্যোগের সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় রয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশাসহ আরো ৬ তরুণ। এরা হলেন ফজলুল কবির তুহিন, স্মৃতি আজাদ, মঞ্জুরিকা জামালি, স্বপন চৌধুরী এবং জুয়েল রাজ।
এ পথযাত্রায় বিভিন্ন শহরে সভা করার পাশাপাশি কৃষাঙ্গ, শেতাঙ্গসহ সকল কমিউনিটির লোকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। লিফলেটে বলা হয়েছে- সভ্য দুনিয়ার নেতৃত্বদানকারী ব্রিটেন কিভাবে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়স্থল হয়? ব্রিটেন যেন কোন গণহত্যাকারীর আশ্রয়দাতা না হয় এ অনুরোধ জনানো হয়েছে লিফলেটের মাধ্যমে। আমিনুল হক বাদশা এ প্রতিবেদককে জানান, ২০ মার্চ সকাল ৮টায় যাত্রা শুরু করে তারা ইতিমধ্যে ৩৫ মাইল পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী স্টক অন ট্রেন্ট শহরে পৌছেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় তারা বার্মিংহামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এরপর লুটন ও নর্থহামটন হয়ে ২৬ মার্চ লন্ডনে প্রবেশ করবেন। এ দিন লন্ডনের রিজেন্ট পার্কে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং চৌধুরী মাঈনুদ্দিনকে ব্রিটেন থেকে বিতাড়নের দাবিতে এক সমাবেশে যোগ দেবেন তারা। আমিনুল হক বলেন, ব্রিটেনে জন্ম নেয়া এ যুবক বাংলাদেশের প্রতি যে আবেগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
সাজ্জাদুল আজিজ ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে বলেন, তিনি কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন। শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনই তার আবেগকে জাগ্রত করেছে। তিনি আরো বলেন, ব্রিটেনের বিভিন্ন জায়গায় গণজাগরণ মঞ্চ করে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,‘আমি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দিতে চাই দেশে বিদেশে অবস্থানরত সকল দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। তাই ব্রিটিশ সরকারও যেন এ বিচারকে সমর্থন করে। সেই সাথে ব্রিটেন যেন কোন গণহত্যাকারীর আশ্রয়দাতা না হয়।’