দিনাজপুর আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জরিপ

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত দিনাজপুর জেলায় বিপুলসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করলেও তাদের জীবনযাত্রার উপর সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে তেমন কোন তথ্য বা পরিসংখ্যান নেই। ফলে আদিবাসীদের উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নে ফলপ্রসূ পরিকল্পনা কষ্টসাধ্য। আইএলও’র মতে যাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অন্যান্য অংশের তুলনায় অনগ্রসর এবং যাদের জীবনধারা সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিচালিত হয় তাদের নিজস্ব প্রথা ও ঐতিহ্য অনুসারে, তাদের নিজেদের অথবা আইন নেই। গত রবিবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সিডিসি দিনাজপুরের পরিচালক যাদবচন্দ্র রায়। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি) দিনাজপুরের আয়োজনে ও অক্সফাম, গ্রো এবং সিএসআরএল’র সহযোগিতায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রা মানোন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্গত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর তথ্য প্রতিবেদন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশনের সদস্য এবং সিএসআরএল’র সদস্য যাদবচন্দ্র রায় বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে আমরা দিনাজপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে জরিপ করেছি। জরিপকৃত পরিবারের সংখ্যা ৬৪৬টি। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও কর্ম উপার্জন এবং জমির আবাদ ক্ষেত্রে অবস্থা খুবই নাজুক। সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কৃষিভিত্তিক অবদানের স্বীকৃতি প্রদান, আগাম শ্রম বিক্রি হ্রাস, তাদের নিজস্ব সংগঠন তৈরি ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচিতে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী নেতা রমেশ রায় ঋষি, মিশু সরেন, কৃষক নেতা মমিনুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ রায়, সমাজসেবক মাহাতাব উদ্দিন, জীবিকা বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী ও জনমূল্য কমিশনের সদস্য মো. শওকত আলী প্রমুখ।