সিদ্ধিরগঞ্জে টেক্সটাইল মিলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকেশ্বরী এলাকায় ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলের দু’টি শ্রমিক কলোনীর ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ এ ভবনে পাঁচশতাধিক লোক চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। ফলে যে কোন সময় ভবন দুটি ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশ্য মিল কর্তৃপক্ষ ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। জানা যায়, ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলের তিনতলা বিশিষ্ট ৪টি ভবন দীর্ঘ ৬২ বছরের পুরানো। ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় ইতিমধ্যে দু’টি ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অবশিষ্ট দু’টি ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু জরাজীর্ণ ভবনে এখনও পাঁচশতাধিক লোকজন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। জানা যায়, ১৯৪২-৪৩ সালে ২নং ঢাকেশ্বরী কটন মিল শ্রমিকদের জন্য সর্বপ্রথম এ ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৮৩ সালে বিটিএমসি কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত এ মিলটি বিক্রি করে দেয়। পরে মিলটি ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিঃ নামে পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু শ্রমিক কলোনিগুলো পূর্বের ন্যায় বহাল থাকে। ২টি ভবন ভেঙ্গে ফেলা হলেও ২টি ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যেই ভবনের আস্তর খসে খসে শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারের মাথার উপর পড়ছে। ভবনের সিঁড়ি, দরজা-জানাল ভাঙ্গা। ভবনে গ্যাস নেই। শ্রমিকরা চুলোতে রান্না-বান্না করছেন। ভবনগুলোতে চুনকাম করা হয় না বহু বছর ধরে। ভবনের টয়লেটগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে শ্রমিকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অমানবিকভাবে বসবাস করছেন। ভবনের বাসিন্দা মোরশেদা বেগম জানায়, আমরা গরিব মানুষ তাই এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি। ভবনে ভাড়া লাগে না বলে অনেক বহিরাগতও এখানে বসবাস করছে। এ ব্যাপারে মিলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আফজাল হোসেন জানান, শ্রমিকদের জন্য টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে আমরা ভবন দু’টিতে নোটিশও ঝুলিয়ে দিয়েছি। শীঘ্রই ভবন দুটি ভেঙ্গে ফেলা হবে।