বটিয়াঘাটা ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯৫ কক্ষই ফাঁকা
আব্দুল হামিদ, বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৭
সিডর ও আইলার মত ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবর্তী হতদরিদ্র মানুষদের বাঁচাতে সরকার নিম্নাঞ্চলে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বটিয়াঘাটা উপজেলার ভাণ্ডারকোট ও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ১৯৯৬ সালে ২টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। ভাণ্ডারকোট গ্রামে মরা পশুর নদীর ভরাট জায়গায় ১৫টি ও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ভাদাইলবুনিয়া গ্রামে ৭টিসহ মোট ২২টি ব্যারাক নির্মিত হয়। প্রতিটি ব্যারাকে ১০টি করে কক্ষ থাকায় মোট ২২০টি কক্ষ নির্মাণ শেষে তালিকা তৈরির মাধ্যমে গৃহহীন হতদরিদ্রদের সেখানে বসবাস করতে দেয়া হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ভাণ্ডারকোট গ্রামে ১৫০টি কক্ষের ৬৫টি ও বালিয়াডাঙ্গার ৭০টি কক্ষের ৩০টি, মোট ৯৫টি কক্ষে এখন কেউ বাস করে না।
বাকি ১২৫টি কক্ষের মধ্যে ৩১টি কক্ষে বহিরাগত কিছু লোক অস্থায়ীভাবে বাস করে। তারা বিভিন্ন এলাকায় কাজ করে বেড়ায়। মাঝে মধ্যে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ফিরে আসে। সিমেন্টের পিলার, টিনের ছাউনি ও বেড়াদ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে প্রতিটি ব্যারাক। প্রতিটি ব্যারাকের জন্য ১০টি করে কক্ষ। আর ১০টি কক্ষের জন্য তৈরি করা হয়েছে ১টি কাঁচা-পাকা পায়খানা। ১৫টি ব্যারাকের জন্য দেয়া হয় মোট ১৯টি নলকূপ যার ২টি গভীর। তাছাড়া রয়েছে ২টি অফিস ঘর ও ১টি মসজিদ। ঝড়ে অফিস ঘরের চাল উড়ে যাবার পর আর মেরামত করা হয়নি। ১৯টি নলকূপের ১৭টি অকেজো। পানি আনতে হয় বাইরে থেকে। ২টি গভীর নলকূপ বসান হলেও তা প্রায়শই থাকে নষ্ট। পায়খানাগুলো আধাপাকা হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রকল্পের অর্থ থেকে ঘূর্ণায়মান ঋণ হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর ভাণ্ডারকোট আশ্রয়ণ কেন্দ্রে মোট ৯৭ জনের মধ্যে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করে। কিন্তু প্রদত্ত ঋণের অর্ধেক টাকা আজও আদায় হয়নি। ঋণ গ্রহণের পর ২৫ জন আশ্রয়ণ কেন্দ্র ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ভাদাইলবুনিয়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা। আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথমদিকে একটা কক্ষ পাবার জন্য হতদরিদ্র মানুষরা হুমড়ি খেয়ে পড়তো। তখন অনেক যাচাই-বাছাই করে ‘সৌভাগ্যবান’দের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু সেই কক্ষগুলো এখন অবহেলার পাত্র! অবহেলা আর অযত্নে এসব কক্ষের চাল ছিদ্র হয়ে ভেঙে পড়ছে। অনেক কক্ষ গরু-ছাগলের গোয়াল হয়েছে! প্রথমদিকে সরকারি তদারকি থাকায় নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা করে আশ্রয়ণবাসীরা চলাফেরা করতো। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তি মনি চাকমার সাথে আলাপকালে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, কক্ষগুলোকে মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের সভাপতি লিপিয়া ও সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তির কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।