সৃজনশীল পদ্ধতি : জটিলতা ও প্রস্তাব

আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন সৃজনশীল পদ্ধতি যা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের এবং ভালো ফলাফল অর্জনে একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্রাথমিক সমাপনী জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি সকল সোপনই এখন সৃজনশীলতার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে গিয়ে এই পদ্ধতির কিছু জটিলতা এখানে তুলে ধরা হলো: ১। এই পদ্ধতির সৃজনশীল অংশ ৬০ নম্বর এবং নৈর্ব্যক্তিক অংশে ৪০ নম্বরের মধ্যে পরীক্ষা হয়। একজন ছাত্রকে পাস করতে হলে সৃজনশীল অংশে ৬০-এর মধ্যে ২০ নৈর্ব্যক্তিক অংশে ৪০-এর মধ্যে ১৩ পেতে হবে। এখন যদি এমনটি হয় যেমন, রহিম পরীক্ষায় সৃজনশীল অংশে ৪৫ এবং নৈর্ব্যক্তিক অংশে ১২ মোট ৫৭ আর করিম সৃজনশীল অংশে ১৯ এবং নৈর্ব্যক্তিক অংশে ১৩ মোট ৩৩ নম্বর পেয়ে পাস করল। এই দুই জনের মধ্যে মেধাবী কে? ২। এই পদ্ধতিতে প্রথম ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট পরে সৃজনশীল অংশের উত্তরপত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং ৫ মিনিট বিরতির পর নৈর্ব্যক্তিক অংশের জন্য ওএমপি সিট দেয়া হয় এর ৫ মিনিট পর নৈর্ব্যক্তিক অংশের প্রশ্ন দেয়া হয়। এই যে দেয়া এবং নেয়ার মধ্যে বাইরে যাওয়া, আসা এবং দ্বিতীয়বার স্বাক্ষর দেয়া এর ফলে পরীক্ষার কক্ষে এক প্রকার ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় তাতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন এক ধরনের মানসিক চাপের সৃষ্টি হয় তেমনি কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের মধ্যে ধারাবাহিক কাজের বিঘ্ন ঘটে। একজন ছাত্রের পূর্ণমেধা প্রয়োগের জন্য তাকে কি পূর্ণ তিনঘণ্টা নীরব সময় দেয়া উচিত নয়? ৩। এমনও দেখা গেছে কোনো একজন ছাত্র বাংলা তিনটি অংশ (সৃজনশীল, নৈর্ব্যক্তিক এবং দ্বিতীয় পত্র) ইতিহাস প্রথমপত্র (সৃজনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক অংশ) ইতিহাস দ্বিতীয়পত্র (সৃজনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক) এই দুইটি বিষয়েরই সাতটি অংশ এভাবে একজন ছাত্রের ছয়টি বিষয়ের (৪–৪+৩+২) ২১টি অংশের মধ্য থেকে দুর্ভাগ্যক্রমে কোনো একটি অংশে পাস নম্বরের চেয়ে ১ নম্বর কম পেলো এবং অন্য সকল বিষয় এ+ নম্বর পেয়েও অকৃতকার্য হলো। এটা খুবই পরিতাপের বিষয় নয় কি? ৪। সৃজনশীল এবং নৈর্ব্যক্তিক অংশের জন্য ওএমআর সিটসহ আলাদা আলাদা তিনটি অংশে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা যেমন বিড়ম্বনার তেমনি পরিবহন, উত্তরপত্র, মূল্যায়ন, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং সংরক্ষণে যথেষ্ট জটিলতার সৃষ্টি হয়। যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের জন্য কি বাড়তি ভোগান্তি নয়? এসব সমস্যার সমাধানকল্পে এবং এই পদ্ধতিকে আরো গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ সৃজনশীল পদ্ধতির নীতি নির্ধারকদের নিম্নলিখিত প্রস্তাবটির প্রতি সবিনয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি— একই প্রশ্নে প্রথম অংশ নৈর্ব্যক্তিক দ্বিতীয় অংশে এককথায় বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং তৃতীয় অংশে সৃজনশীল রেখে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা। এই তিনটি অংশে (৩০+৩০+৪০) মোট নম্বর ১০০, পাস নম্বর ৩৩। এই পদ্ধতিতে একজন পরীক্ষার্থী স্বাধীনভাবে মন উজাড় করে ৩ ঘণ্টা নীরবে লিখে মেধার পূর্ণ প্রয়োগ করতে পারবে। এর ফলে পাসের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি মেধারও অমর্যাদা হবে না। বাড়তি বিড়ম্বনা থেকেও শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলে রক্ষা পাবে বলে আমি একান্তভাবে মনে করি। এখানে উল্লেখ্য, যেহেতু সজৃনশীল পদ্ধতিতে প্রতিটি বাক্য মনোযোগসহকারে পড়তে হয় এবং অনুধাবন করতে হয় সেহেতু সিলেবাসের আওতা ও পরিধি সংক্ষিপ্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। বরগুনা