মুজিবনগরে বিএনপি নেতা ও কলেজপড়ুয়া মেয়েকে হত্যা

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বিএনপি নেতা হামিদুর রহমান ওরফে হেলাল ডাক্তার ও তার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। হামিদুর রহমানকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পিতাকে বাঁচাতে মেয়ে সেতু এগিয়ে আসলে বোমা হামলায় তিনি মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এমএল জনযুদ্ধের খুলনা বিভাগীয় সম্পাদক বিকাশ মজুমদারের একটি বিবৃতির কপি উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক হামিদুর রহমান ওরফে হেলাল ডাক্তারকে (৫৫) অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা খুন করেছে। একই সময়ে নিজ পিতাকে উদ্ধারে এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে মারাত্মক আহত কলেজ ছাত্রী সেতু (১৭) মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন। উপজেলার রতনপুরস্থ তার নিজ বাড়িতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাদের হত্যা করে। ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রোগী বাইরে আছে বলে পাচিলের দরজা খুলে ছয়-সাত জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে। তারা হেলাল ডাক্তারকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নেয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় তার ছোট মেয়ে সেতু এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে একটি বোমা নিক্ষেপ করে। বোমার আঘাতে সেতুর শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ওই সময় হেলাল ডাক্তার দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা তার পিছু নিয়ে প্রতিবেশী সাধন মল্লিকের বাড়ির সামনের রাস্তার উপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এর পর তারা দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। ওই সময় বোমার প্রচণ্ড শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী দিগ্বিদিগ ছুটাছুটি করে নিরাপদ স্থানে যাবার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। আতংক ছড়িয়ে পড়ে সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে। নিকট আত্মীয়রা সেতুকে উদ্ধার করে দ্রুত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ওসি রবিউল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ হেলাল ডাক্তারের লাশ ও বোমার আলামত উদ্ধার করে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট গ্রহণ শেষে পুলিশ হেলাল ডাক্তারের লাশ থানায় নেয়। এদিকে রাত ১টায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সেতু মারা যায়। হেলাল ডাক্তার ও তার মেয়ের মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হেলাল ডাক্তার বগুড়া জেলার সন্তান। তার পিতার নাম খন্দকার ইসরাত আলী। তিনি প্রায় ৩০ বছর আগে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে আসেন ও ওই গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে সন্ধ্যাকে বিয়ে করে রতনপুর গ্রামেই বসবাস করছিলেন। তিনি ৩ সন্তানের জনক। তার প্রথম ২ মেয়ের মধ্যে বড় ঋতু বিকম ও ছোট মেয়ে সেতু কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ছেলে শাওন স্থানীয় বাগোয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পেশায় তিনি একজন গ্রাম্য ডাক্তার। রতনপুর মোড়ে (পুরাতন মুজিবনগর থানা মোড়ে) তার ছোট একটি দোকান রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই মাস থেকে তাদের কাছে মাঝে মাঝে চাঁদা চেয়ে ফোন করা হতো। পুলিশ লাশের পাশ থেকে শাদা কাগজে কম্পোজ করা একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। এতে নিজেকে এলএম জনযুদ্ধের খুলনা বিভাগীয় সম্পাদক বিকাশ মজুমদার বলে প্রকাশ করে একটি সেলফোন নম্বর ০১৮৫২০৩৭৪৬৫ দেয়া ছিলো। পুুলিশ সুপার মোফাজ্জেল হোসেন, এএসপি (সার্কেল) আব্দুল মতিন, মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ও মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকতার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মেহেরপুর শহরে সাবেক এমপি ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গতকাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে এক সমাবেশ করেন। সমাবেশে মাসুদ অরুন বলেন, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। তা না’হলে মেহেরপুর অচল করে দেয়া হবে। কাল রবিবার জেলা প্রশাসক বরাবর বিএনপি স্মারকলিপি দেবে। ওসি রবিউল হোসেন জানান, এ পর্যন্ত হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সন্দেহ ভাজনদের গ্রেফতারের চেষ্টায় মাঠে রয়েছে। এছাড়া হত্যার নেপথ্যে কি কারণ থাকতে পারে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।