ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
বিচার ও রাজনৈতিক
ব্যবস্থার মানহানি করেছে
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৩, ২২:৩২
ইসরাইল ১৯৬১ সালে আর্জেন্টিনা থেকে নাত্সীর ওয়ানসি কনফারেন্সের সেক্রেটারি এডলফ আইকম্যানকে অপহরণ করে। ২০ বছর আগে করা গণহত্যার অপরাধের জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। তার বিচারের সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন, ইসরাইলের এটর্নি জেনারেল আর আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জার্মানির শীর্ষ পর্যায়ের একজন আইনজীবী। এ বিচার প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিলো। আর এখন ঢাকায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও বিচার চলছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়াবহ অপরাধকারী কয়েকজনের বিচার হচ্ছে। বিবাদীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, গণ ধর্ষণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে তাদের বিচার ইসরাইলের বিচার প্রক্রিয়া থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ইকোনমিস্টের শনিবারের ছাপা সংখ্যায় ‘বাংলাদেশে বিচার আরেক ধরনের অপরাধ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার তাদের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের বিচার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মানহানি করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের বিবেচনার ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনসাধারণের আলোচনার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সংখ্যা কাটছাট করা হচ্ছে। এমনকি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে একজন সাক্ষী অপহরণেরও অভিযোগ রয়েছে। সাবেক একজন বিচারক পদত্যাগ করেছেন এবং যে তিন বিচারক সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন তারা কেউই বিচার প্রক্রিয়ায় সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ছিলেন না। এগুলো বিচার প্রক্রিয়ার বড় ত্রুটি। এটা শুধু আইকম্যানের বিচারের মানের দিক থেকে নয় বাংলাদেশের আইনের প্রয়োজনীয়তার দিক থেকেও ত্রুটিপূর্ণ।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ট্রাইব্যুনালের এই ত্রুটিপূর্ণ বিচারে বাংলাদেশের অনেকেই উল্লোসিত। যখন আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তখন অনেকেই জড়ো হয়ে এ রায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। গত ২০ বছরের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। এখন সরকার মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য আইনে সংশোধনী এনেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াত বা তাদের সমর্থনকারীদের প্রতি ইকোনমিস্টের কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু বিশেষ কোনো দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে এককভাবে ন্যায়বিচার হতে পারে না। আইকমানের বিচার প্রক্রিয়া বলে দেয়, গণহত্যার ভিকটিমদের জন্য সত্যিকারের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া জরুরি। অবশেষে বাংলাদেশও এর স্বীকৃতি দেবে। তবে তখন দেরি হয়ে যেতে পারে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এমন এক কুয়াকে বিষাক্ত করছে যার পানি বাংলাদেশ একদিন পান করতে চাইবে।