মু খো মু খি

আমরা চলচ্চিত্রের প্রায় একই গল্পের ভেতরে আটকে আছি

‘লালটিপ’-এর পর এবারে ‘পরবাসিনী’ চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই চলছে এই চলচ্চিত্রের কাজ। ‘পরবাসিনী’র শুটিং এবং সাম্প্রতিক কাজ প্রসঙ্গে স্বপন আহমেদ কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অর্ক হাসান কেমন আছেন? ‘লালটিপ’ চলচ্চিত্রের পর দীর্ঘ সময় ধরেই একটি সায়েন্টিফিক চলচ্চিত্র ‘পরবাসিনী’ নির্মাণ করছেন। কিন্তু ছবি তৈরির এই বিলম্ব কি দর্শকদের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়িয়ে দিচ্ছেন না। পরে যদি প্রত্যাশা আর প্রাপ্তিতে বিস্তর ফারাক থেকে যায়? না, আশা করছি ফারাক থাকবে না। কারণ আমরা একটা রেকর্ড গড়তে যাচ্ছি। বাংলাদেশে এই প্রথম এই ধারার একটি চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে। আর তাই সময় তো একটু লাগবেই। এর ভেতর অনেককেই এই কনসেপ্টটা বুঝাতে হচ্ছে। একটা তরুণ গ্রাফিক্স টিম আমার সাথে কাজ করছে। বিদেশি কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ করছি। সবমিলিয়েই আসলে এই বিলম্ব। কবে নাগাদ ছবিটি রিলিজের সম্ভাবনা রয়েছে? আশা করছি বছরের শেষ দিকে ছবিটি রিলিজ দিতে পারব। মুক্তির ঠিক তিন মাস আগে ছবিটির মিউজিক রিলিজ দেব। একই সাথে ১৭টি দেশে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার প্ল্যান করছি। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। ছবির শুরুর দিকে নিরব-মেহজাবিনকে নিয়ে শুরু করেছিলেন। এরপর ইমন আপনার ছবিতে ইন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় নানান কথাও শোনা গেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আপনার মতামত শুনতে চাইছি। ‘পরবাসিনী’ ছবির পুরো প্রেক্ষাপটটাই অনেক বিশাল। তাই এখানে আমি মনে করি, সামনের এই কয়েকমাস আরও কয়েকজন বাঘা বাঘা চলচ্চিত্র তারকাকে সংশ্লিষ্ট করার চিন্তা রয়েছে। সবমিলিয়ে সত্যিকার অর্থেই বড় ক্যানভাসের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হলে তো অনেক তারকার সমন্বয় লাগবে। এতে হয়তো সাময়িকভাবে নিরবের সাথে আমার কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ছবিটি রিলিজ হলে এবং ছবিটির পোস্ট প্রোডাকশন দেখলে নিরব আমার সাথে একমত হবে। কারণ পুরো ক্যানভাসে তো ছবি আঁকছি আমি। তাই সাজানোর কাজটিও আমাকেই করতে হবে। এবার একটি গুঞ্জনের বিষয়ে আসি। অনেকেই বলেন সারিকা আর নিরবের ভেতর প্রেমের ভাঙন বা পরবর্তীতে কিছুটা সাপোর্ট দেওয়ার বিষয়টাও এখানে দায়ী। না এখানে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। আমি মূলত আর্টিস্টদের কোনো কাজের ক্ষেত্র ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কখনও নাক গলানোর চেষ্টাও করি না। আর বস্তুত আমার ছবিতে নিরব যখন কাস্ট হয় তখন আমি জানিও না সে কার সাথে প্রেম করে। কারণ সেটা আমার বিষয় না। তবে নিরব ‘পরবাসিনী’ ছবির জন্য অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করেছে। নিরবের জন্যও এই ছবিটি আলাদা একটি উদাহরণ তৈরি করবে। এটা নিরব একটা সময় এসে বুঝবে। আমরা টোটাল ছবির ইউনিট তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এবার আসি মেহজাবিন প্রসঙ্গে। এ ধরনের ছবিতে একেবারে আনকোরা অভিনেত্রী কী ভেবে নিলেন। অভিনেত্রী মেহজাবিন কেমন করছে? আমার ছবির গল্পই মেহজাবিনকে দাবি করছিল। আর আমি বলব ও অসাধারণ অভিনয় করে। এরই ভেতরে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র ও নাটকে মেহজাবিন তার মেধার পরিচয় দিয়েছে। আর একটি ভিন্ন গ্রহের মেয়ে হিসেবে মেহজাবিনের বিকল্প আমি দেখিনি। বর্তমান চলচ্চিত্রের এই বাজারে আপনার ছবির সাফল্য কতটা পাবে বলে মনে করেন আপনি? এখন আমার ছবির ব্যবসা পেতে অনেক সময় লেগে যাবে। কারণ বাজারটা এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। আর বাস্তবতা হলো এত প্রযুক্তির চলচ্চিত্র আমি কয়টা হলে প্রজেকশন করব। আমাদের হলের অবস্থাও ভালো না। কিন্তু সারাবিশ্বের বাজারটা ধরতে পারলে একসময় আমরা সফল হবই। আমাদের এখানে অধিকাংশ নির্মাতাই বলছেন এখন তারকা সংকট। যাদের ছবিতে কাস্ট করে অনায়াসে লগ্নি উঠিয়ে নেওয়া যায়, সেই নির্ভরশীল তারকা নেই আমাদের এখানে। সেই বাজারে আমাদের চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে আপনার মূল্যায়ন কী? আমি আশাবাদী সব সময়। আমাদের যেটা ভুল হচ্ছে, তা হলো আমরা চলচ্চিত্রে প্রায় একই গল্প একই টাইপের ভেতরে আটকে আছি। কোনো বাংলাদেশি আজ পর্যন্ত হরর ছবি নির্মাণের চেষ্টা করল না। কেউ একটি ডিকেটটিভ ছবিও করল না। সব একই গত্বাঁধা চলচ্চিত্র। যেখানে নায়ক-নায়িকা, ভিলেন আর নাচ থাকবে। সে হিসেবে আমি বলব ‘চোরাবালি’ অনেক ভিন্ন কিছু দেখানোর চেষ্টা করেছে। এই প্রেক্ষাপট বদলাতে সময় লাগবে। আগামী কয়েক বছরের ভেতরেই এই সময়টাকেও আমরা হাতে পাবো ইনশাল্লাহ। শেষ প্রশ্ন—‘পরবাসিনী’ ছবির গান প্রসঙ্গে বলুন। এটাকেও আমি বলব, আমার ‘লালটিপ’-এর মতোই একটি মিউজিক্যাল ছবি। অসাধারণ কিছু গান থাকছে। দুইটি টাইটেল ট্র্যাক থাকছে, দুই মোডে। ছবির গান মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের কয়েকটি লোকেশনে আমরা শুটিং করব। এবং একইভাবে বড় একটি কনসার্টের ভেতর দিয়েই আমাদের ‘পরবাসিনী’র মিউজিক অ্যালবাম মুক্তি দেব।