তুরস্কের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইসরাইল

২০১০ সালে গাজামুখী তুরস্কের ত্রাণবহরে হামলায় নয় তুর্কি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার তুরস্কের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি ঐ হামলায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার অঙ্গীকারও করেছে ইসরাইল। ২০১০ সালে ইসরাইলের গাজা অবরোধ ভাঙতে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ে ছয়টি জাহাজের একটি বহর ফিলিস্তিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। ফিলিস্তিনের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলা চালায় ইসরাইলী বাহিনী। এতে মারা যায় ৯ জন তুর্কি নাগরিক। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ তুরস্ক। ঐ হামলার ঘটনায় যেকোনো ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর আগে ওই ঘটনার জন্য কেবল দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু এবার ইসরাইলের সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ওই প্রাণহানির ঘটনায় যে কোনো ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছেন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে রাজি হয়েছেন। তাছাড়া তুর্কি ত্রাণকর্মী নিহতের ওই ঘটনার পর থেকে তুরস্ক এবং ইসরাইলের মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্ক মেরামতেও নেতানিয়াহু এবং এরদোয়ান রাজি হয়েছেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, নিহতদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারেও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু। তুর্কি কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুর ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে জর্ডানের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে শুক্রবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, নেতানিয়াহু ও এরদোয়ানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়, তুরস্ক ও ইসরাইল উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ কারণেই বিশ্লেষকরা মনে করছে, বারাক ওবামার ইসরাইল সফরের পরেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার বরফ গলেছে বলে।