এসএমই উন্নয়নে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) যেভাবে অবদান রাখার কথা তা রাখতে পারছে না। অথচ মালয়েশিয়া, চীন ও ভারত এ খাতের উপর ভর করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য এদেশের এমএসএমই খাতকে কার্যকরী করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ ও ভারতের এক যৌথ সেমিনারে এ প্রস্তাব এসেছে। সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ প্রস্তাব দিলে অন্যরা সমর্থন করেন। সেমিনার শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে আইডিয়া (ধারণা) হয়ে গেছে এখন শুধু কাঠামো তৈরি করতে হবে। এর সদস্য কারা হবে সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন, ভারতীয় হাইকমিশন এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (আইবিসিসিআই)। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ ও ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (আইবিসিসিআই)। ভারতীয় হাইকমিশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ সরণ। ভারতের এমএসএমই সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা করেন ভারতের ক্ষুদ্রশিল্প উন্নয়ন ব্যাংকের (সিডবি) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুশীল মোহনত্, ন্যাশনাল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (এনএসআইসি) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এইচ পি কুমার এবং ইন্টেগ্রেটেড এসোসিয়েশন অব মাইক্রো, স্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেজ অব ইন্ডিয়া (আইএমএসএমই) চেয়ারম্যান রাজীব চাওলা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, নির্বাহী পরিচালক খসরু চৌধুরী, এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য কাজ করা দেশের জন্যই কাজ করা। এ খাতে কাজ করলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও বাড়বে। এ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশ ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের কাছ থেকে উভয়ের অনেক কিছু শিখার আছে। বিশেষ করে ভারতের প্রাইভেট-পাবলিক সেক্টর কিভাবে কাজ করছে সে বিষয়ে আমাদের শেখার আছে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকদিনের। এটাকে মজবুত করার জন্য উভয়েরই হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে এমএসএমই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। এছাড়া সেবা খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিযোগী সক্ষমতা গড়ে উঠে। তাই অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য এ খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে মত বিনিময়ের জন্য এ ধরনের আয়োজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের পরিবেশ কিছুটা ভিন্ন হলেও উভয় দেশ থেকে উভয়ের শিক্ষার অনেক কিছু আছে। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ভারত এমএসএমই খাতে অনেক এগিয়েছে। সেটা করেছে তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ও পরিবেশে। তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নিজস্ব পদ্ধতি ও পরিবেশে তা কাজে লাগাতে হবে বলে তিনি মনে করেন। এ সেমিনারের মাধ্যমে দু’দেশের এমএসএমই খাতের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র এবং উদ্যোক্তা ও বাণিজ্য সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কিভাবে কমানো যায় সে বিষয়েও সেমিনারে কথা হয়।