শরণখোলায় সরকারি গাছ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৯
সারা দেশেই বৃক্ষ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে যেখানে নেয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা, ঠিক, সেই মুহূর্তে বৃক্ষ নিধনের খেলায় মেতে উঠেছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগে প্রকাশ। তিনি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ৬৯টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরা ও বিনষ্টযোগ্য দেখিয়ে নিলামে বিক্রি করার পাঁয়তারা করছেন। ইতিমধ্যে নিলাম বিক্রির দরপত্র বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। সরেজমিন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছের গায়ে লাল রঙ দিয়ে ক্রমিক নম্বর দেয়া হয়েছে। ৬৯টি গাছের মধ্যে সিডরে দু-একটি গাছের ডালপালা ভেঙে গেলেও বাকি সবগুলো গাছই সুস্থ ও স্বাভাবিক। এর মধ্যে অধিকাংশ গাছের ডালপালা ছেঁটে মরা ও বিনষ্ট দেখানো হয়েছে। ছেঁটে ফেলা সব গাছেই নতুন শাখা প্রশাখা আর সবুজ পাতা গজিয়েছে। অথচ ইউএনও লুকোচুরির আশ্রয় নিয়ে এসব জ্যান্ত গাছগুলোকে মরা ও বিনষ্টযোগ্য উল্লেখ করে নিলামে বিক্রি করছেন। এব্যাপারে উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিস পাড়ার এ গাছগুলো কেটে ফেললে প্রচন্ড গরমে অফিসে বসে কাজকর্ম করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিষদ চত্বরে গাছগুলো থাকায় তারা ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটা রক্ষা পেয়েছে। গাছগুলো কেটে ফেললে এলাকা বিরাণভূমিতে পরিণত হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, উন্নয়ন কাজের জন্য গাছগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। তবে তিনি গাছগুলোকে জীবিত বলে স্বীকার করছেন না। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শুকুর আলী বলেন, কাগজপত্রে মরা-পচা দেখেই গাছগুলোকে নিলামের অনুমোদন দিয়েছি। এগুলো যে জীবন্ত তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।