রায়পুরায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে
রায়পুরা (নরসিংদী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৪
রায়পুরায় কোন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ নেই। ফলে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত হয়ে অকালে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে।
উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় জনসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষাধিক। উপজেলায় ১৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৩টি ননএমপিওভুক্তসহ ৪৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ১২টি, এর মধ্যে দাখিল ৭টি, আলিম ৩টি, ফাজিল ২টি এবং ৩টি কারিগরি ও ১টি মহিলা কলেজসহ ৩টি কলেজ রয়েছে।
উপজেলায় প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। যাদের অধিকাংশ দরিদ্র কৃষকের সন্তান। অধিক বেতন দিয়ে অনেক কৃষক তার সন্তানকে বই, খাতা, কলম প্রভৃতি কিনে দিয়ে লেখাপড়া চালাতে পারেন না। এখানকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাদ্রাসা ও কলেজগুলো বেসরকারি হলেও এগুলোতে অবকাঠামোগত অসুবিধা, আসবাবপত্রের স্বল্পতা, শিক্ষকদের অদক্ষতা, ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বই না থাকা, শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন না পাওয়া প্রভৃতি কারণে শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়। ফলে মাধ্যমিক স্তরে এসে অনেক শিক্ষার্থী অকালে ঝরে পড়ে। এ ব্যাপারে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলায় প্রতি বছর এস এস সি ও দাখিল পরীক্ষায় গড়ে ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের মধ্যে নগণ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকায় ভাল ও সরকারি কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পাচ্ছে। এদের মধ্যে জেলা সদর অথবা ঢাকায় থেকে লেখাপড়া চালানোর মত আর্থিক সঙ্গতি নেই অধিকাংশের। ফলে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে।