একই পরিবারের ছয়জনকে পুড়িয়ে মেরেছিল হানাদাররা

গফরগাঁও পৌরশহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রসুলপুর বাজার। সেই বাজার থেকে ২০/৩০ গজ পশ্চিমদিকে বৃক্ষ-লতায় ঘেরা কায়স্থ বাড়ি। একাত্তরের এক ভোর রাত্রির ঘটনা। সেই বাড়ির দরজা খুলতেই ঢুকে পড়ে পাক-হানাদার ও তাদের সহযোগী এদেশীয় রাজাকারের দল এবং পৈশাচিক নৃশংসতায় মেতে ওঠে তারা। ঘটে ইতিহাসের নির্মম, নৃশংসতম এক ঘটনা। ইপিআরের ৩/৪ জন মুক্তিযোদ্ধা পালিয়ে এসে এই কায়স্থ বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। এই ‘অপরাধে’ পাক-হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১ জুন মঙ্গলবার ভোর রাতে এই বাড়িতেই ঘটায় নির্মম, নৃশংস, লোমহর্ষক ও নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞ। এই হত্যাযজ্ঞে কায়স্থ বাড়ির প্রধান কর্তা নিশি রঞ্জন ধর (৬০), শিশির কুমার ধর (৫৫), শিষ রঞ্জন ধর (৫২), ভাগিনা স্কুল শিক্ষক রতন কুমার রায় (৪০), ভাতিজা হরিবল চন্দ্র দেব (৫০) ও সন্তোষ কুমার ধরকে (৫০) জীবন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। নিশি রঞ্জনের প্রতিবেশী ও নারকীয় এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাফিজউদ্দিন (৫৮) ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ঐদিন ভোর রাতে হৈচৈ ও কান্নাকাটি শুনে আমরা ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কায়স্থ বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলছে। ঘাতকের দল চলে যাওয়ার পর আমরা গিয়ে দেখি কায়স্থ বাড়ির প্রধান নিশি রঞ্জন ধরসহ ৬ জনকে ঘরের ভেতর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। অসিত কুমার দেব (৫৫) বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর অতিবাহিত হলেও কেউ কোনদিন আমাদের পরিবারের খোঁজ নিতে আসেনি।