মুন্সীগঞ্জে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান

মুন্সীগঞ্জে একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিহারটি প্রায় ১১শ’ বছর আগে নির্মিত এবং জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্করের আমলের বলে ধারণা করছেন দেশের প্রত্নতত্ত্ব গবেষকরা। গতকাল শনিবার বৌদ্ধ বিহারের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুসন্ধানী দল ও ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’র কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনের বরাত দিয়ে আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় প্রাক-মধ্যযুগীয় এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ২০১১ সাল থেকে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ শুরু করে। গত ৩ বছর ধরে এই খননকাজ চলছে। এ কাজে তাদের সহায়তা করছে ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এখানে একটি বৌদ্ধবিহার থাকতে পারে বলে এক বছর আগে ধারণা করা হয়। খননকাজ চালিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেল। এখন পর্যন্ত খনন করে বৌদ্ধবিহারের পাঁচটি কক্ষ পাওয়া গেছে, যেগুলো বর্গাকৃতির (সাড়ে তিন বর্গমিটার করে)। এগুলো বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজের গবেষক অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান খনন কাজের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সদ্য আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহারের সঙ্গে জ্ঞানতাপস অতীশ দিপঙ্করের একটি গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে। বিক্রমপুর অঞ্চল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১শ’রও বেশী মূল্যবান মূর্তি ও ভাস্কর্য আবিষ্কৃত হয়েছে বলে জানান ‘বিক্রমপুর অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্প’র পরিচালক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন। কথিত রয়েছে, অতীশ দিপঙ্করের সময় বিক্রমপুরের (বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ) বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্রে নেপাল, তিব্বত, চীন, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশের প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করতেন। তাদের জন্য একশ’জন শিক্ষক ছিলেন। আর অতীশ দিপঙ্কর ছিলেন ওই শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ।