৪১ বছর পর আজ চালু হচ্ছে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

স্বাধীনতার ৪১ বছর পর প্রতিষ্ঠিত হলো পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। আজ রবিবার বিকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স টেলিকম ভবনে এ জাদুঘর ও পুলিশের প্রথম প্রতিরোধের সিডি উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এ বাহিনীর সদস্যরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে রুখে দাঁড়ান; কিন্তু পুলিশ বাহিনীর এই গৌরবোজ্জ্বল অবদান ও মহান অত্মত্যাগ আর ভূমিকার জন্য ছিল না কোন জাদুঘর। পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কমিটির সদস্য সচিব ডিএমডি এডিসি (সদর) আবিদা সুলতানা বলেন, রাজারবাগ টেলিকম ভবনের দুইটি কক্ষকে জাদুঘরের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এখানে রাখা হয়েছে পুলিশ বাহিনীর গৌরবের অনেক নিদর্শন। এরমধ্যে সেই ওয়ারলেস সেটটি, যা দিয়ে রাজারবাগে পাক হানাদারদের হামলার ২৫ মিনিট আগে সারা দেশে বার্তা পাঠানো হয়েছিল এবং রাজারবাগে উত্তোলন করা সেই পতাকাটিও। পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের পুলিশ বাহিনীর আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বপালন করেন ডিআইজি আব্দুল খালেক। ঐ সময় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে বদলি ও দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সেসব ডকুমেন্টও জাদুঘরে রাখা হয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন চিঠিপত্র। এমনকি প্রবাসী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ এম কামরুজ্জামান মুক্ত এলাকা রৌমারী পরিদর্শনের সময় মন্তব্য লিখেছিলেন সে ডকুমেন্টও সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সঙ্গে রাখা হয়েছে তথ্যকেন্দ্র, আর্কাইভ ও গবেষণা কেন্দ্র। যাতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারে। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর ১৩ হাজার সদস্য সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। আর শহীদ হয়েছেন ৭শ ৫১ সদস্য।