মুক্তিযুদ্ধে ৬৮ বিদেশি বন্ধুকে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে আজ

বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে ভিনদেশি বন্ধুরাও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। মুক্তি পাগল এদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে তারা নিজ নিজ দেশেই নিয়েছিলেন নানা উদ্যোগ। সেসব মানুষকে ধারাবাহিকভাবে সম্মাননা জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। আজ রবিবার এই আয়োজনের ষষ্ঠ পর্বে ৬৮ ব্যক্তিকে সম্মাননা জানাবে বাংলাদেশ। ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ এ দুই শ্রেণিতে সম্মানিত করা হবে এই বিদেশি বন্ধুদের। তবে এবারের আয়োজনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের অনুপস্থিতি সবাইকে শোকাকুল করবে সন্দেহ নেই। এর আগের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই তিনি উপস্থিত থেকে বিদেশি বন্ধুদের বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ২০১১ সালের ২৫ জুলাই ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ দেয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা বিদেশিদের সম্মানিত করার এ উদ্যোগ শুরু হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি পর্বে রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবীসহ ২০৬ ব্যক্তি ও সংগঠনকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, কিউবা, সুইডেন ও নেপালের নাগরিকদের সম্মাননা দেয়া হবে। সম্মাননা তালিকার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন কিউবার বিপ্লবী নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রো ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড উইলসন। এ দুজনকে দেয়া হবে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’। এ দুজনের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করবেন যথাক্রমে ভারতে নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূত আবেলার্দো কিউয়েতো সোসা এবং প্রধানমন্ত্রী উইলসনের ছেলে অধ্যাপক রবিন উইলসন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি জানিয়েছেন, এবার পাকিস্তানের পাঁচ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। গতকাল রাজধানীতে ‘এ চাইল্ড পার্লামেন্টের’ এক অনুষ্ঠানে তিনি আরো জানান, এরা হলেন কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, কবি হাবিব জালিব, বুদ্ধিজীবী ওয়ারিস মীর, বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী নেতা মীর গাউস বক্স বেজেনজো এবং মানবাধিকার কর্মী মালিক গুলাম গিলানি। এরা সবাই প্রয়াত। তবে পরিবারের সদস্যরা আসছেন সম্মাননা নিতে। এরমধ্যে বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীর আসছেন তার বাবা মালিক গুলাম গিলানির পক্ষে এবং সাংবাদিক হামিদ মীর এসেছেন তার বাবা ওয়ারিস মীরের পক্ষে সম্মাননা নিতে। জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুর পক্ষে সম্মাননা নেবেন তমা ভট্টাচার্য, ভারতীয় সেনাবাহিনীর তখনকার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান প্রয়াত লে. জে. জগজিত্ সিং অরোরার পক্ষে লে. জে. (অব.) মহিন্দার সিং, ভারতের আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের পক্ষে অমিত কুমার চৌহান, পাকিস্তানের কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের কন্যা সেলিমা হাশমি, রাজনীতিক মালিক গুলাম গিলানির পক্ষে তার কন্যা আসমা জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক ও কলামিস্ট ওয়ারিস মীরের পক্ষে তার পুত্র হামিদ মীর, যুক্তরাষ্ট্রের কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের পক্ষে তার প্রতিনিধি রবার্ট রোজেনথাল। সফরসূচি অনুযায়ী গতকাল সকাল থেকেই ঢাকায় পা রাখতে শুরু করেছেন বিদেশি বন্ধু, তাদের পক্ষের নিকটজন বা প্রতিনিধিরা। এরপর বিকালে তারা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে যাবেন। সন্ধ্যায় তারা দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। এছাড়া রায়েরবাজার বধ্যভূমি পরিদর্শন, একাত্তরের স্মৃতিচারণা ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের মতো কয়েকটি কর্মসূচির পর ২৭ মার্চ বিদেশি বন্ধুদের ঢাকা ত্যাগ করার কথা।