নারী নির্যাতন বন্ধে ‘প্রতিজ্ঞা হবে প্রতিজ্ঞাই’

নারী নির্যাতন বন্ধে ‘প্রতিজ্ঞা হবে প্রতিজ্ঞাই’ শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে গত শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সপ্তম মহিলা আইনজীবী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কানাডিয়ান দাতা সংস্থা সিডার সহযোগিতায় ১৯৯৮ সাল থেকে এই সম্মেলন আয়োজিত হয়ে আসছে, যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০০ জন। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এড. রোখসানা খন্দকারের নেতৃত্বে চারটি অধিবেশনে বিভক্ত এই সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার আইনজীবী নারীসহ উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মাদ ফজলুল করিম, কানাডার হাইকমিশনার হিটার ক্রুডেন, বেলার নির্বাহী পরিচালক এড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা প্রমুখ। অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সপ্তম মহিলা আইনজীবী সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে মহিলা আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক সমাজের সুবিধা বঞ্চিত নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে। নারী আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে পেশাগত ক্ষেত্রে যথাযোগ্য করে গড়ে তুলছে। এই ফাউন্ডেশন দেশের প্রত্যেকটা জেলায় পৃথক পৃথক নারী আইনজীবীদেরকে একটি সূত্রে গেঁথে রেখেছে। এদেশের সরকার প্রধান নারী হলেও তৃণমূল পর্যায়ে নারীরা এখনো সেভাবে ক্ষমতায়নের কেন্দ্রে আসতে পারেননি। এক্ষেত্রে নারী উন্নয়নে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা একান্ত প্রয়োজনীয়। অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই আইন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ জন্য দিনরাত সার্বক্ষণিক পরিশ্রম করতে হয়। এই পেশায় মহিলাদের সম্পৃক্ত হওয়ায় সর্বপ্রথম পরিবার থেকে বাধা আসে। তবে সকল বাধা উপেক্ষা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে সামাজিক বৈষম্য ও কুসংস্কার দূর করা। দেশের কোনো বারে জেন্ডার পলিসি নেই। নারীদের আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জেন্ডার পলিসি একান্ত অপরিহার্য। চেম্বার আদালতের সর্বক্ষেত্রে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা রাখা উচিত। হিটার ক্রুডেন কানাডিয়ান হাই কমিশনার বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। অর্থনীতি, মানবাধিকার, খেলাধুলা সর্বক্ষেত্রে নারীরা ভূমিকা রাখছে। এর পরেও বাংলাদেশের নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। কানাডার সরকার এ বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করতে বদ্ধপরিকর। এদেশের নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগসহ গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বাস্তবায়নে নারীদের আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। রাশেদা কে চৌধুরী সাবেক উপদেষ্টা নারী আইনজীবীরা হচ্ছেন আইনের চালিকা শক্তি। একজন সফল নারীর পেছনে তখনই একজন সফল পুরুষ সহাবস্থান নেয় যখন সে সফল হয়। একজন নারীকে নিজেকে নারী হিসেবে নয়, একজন মানুষ এবং সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে ভাবতে এবং গড়ে তুলতে হবে। নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের। এক্ষেত্রে রাজনীতি এবং মিডিয়ার ভূমিকা মুখ্য। এজন্য নারীশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এপর্যায়ে নারীদের উন্নয়নে নারী আইনজীবীরাও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। মো. ফজলুল করিম সাবেক প্রধান বিচারপতি পেশা হিসেবে আইন নারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। সপ্তম মহিলা আইনজীবী সম্মেলন নারীদের জন্য একটি সিগন্যাল। আগামীতে এই সম্মেলন নারী আইনজীবী সম্মেলন না হয়ে আইনজীবী সম্মেলন হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়। মো. নজরুল ইসলাম খান তথ্য ও যোগাযোগ সচিব সারা পৃথিবীতে যত সম্পদ আছে তার মাত্র ১০ শতাংশের মালিক নারীরা। নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন একান্ত জরুরি। পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রেও নারী-পুুরুষ সমতা প্রয়োজন। এছাড়া শিক্ষা হচ্ছে পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্য প্রয়োজন। কারণ একজন শিক্ষিত নারী ভাল-মন্দের বিভেদ সহজেই খুঁজে বের করতে পারে। খালেদ মহিউদ্দিন বার্তা প্রধান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন নারীর প্রতি হিংস্রতার নিদর্শন স্বরূপ আমরা সম্প্রতি একটা মোবাইল কোম্পানির জলাপাই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেখতে পাই যে, মিডিয়ায় নারীদেরকে আপত্তিকরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যে কারণে নারীদের প্রতি অনেকের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে নিজেকেই নিজের স্থান তৈরি করে নিতে হবে। এ্যনিলি লিনডাল কেনি সুইডেন এ্যাম্বাসেডর নারী এবং পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার এবং সমান সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নারীরা ঘর থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই হিংসার শিকার হন। বিশ্বায়নের এই যুগে নারী নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে তা নিয়ন্ত্রণও বেড়েছে। এছাড়া ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহলে এদেশের নারীরা কেন পিছিয়ে থাকবে! ড. শাহদীন মালিক অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ছিল মাফিয়া এবং কালো টাকার মালিকদের কাছে জিন্মি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে এখন সুস্থ রাজনীতির চর্চা চলছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে চলছে নোংরা রাজনীতির খেলা। এই নোংরা রাজনীতির কারণেই বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা পেতে বিলম্ব হচ্ছে। কারণ একজন শিক্ষিত এবং সচেতন নারী বা কন্যা সহজে বুঝতে পারে যে তাকে নিজেকে কিভাবে নিরাপদ রাখতে হবে। ড্যান ডব্লিউ মজীনা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সোনার বাংলা গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চায় যেখানে নারী এবং পুরুষের শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের এই সংগ্রামের অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র ন্যায় বিচার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত। অ্যাডভোকেট সুলতানা রহমান বরিশাল বার মফস্বল পর্যায়ে নারী আইনজীবীরা প্রায়ই তাদের সিনিয়র পুরুষ আইনজীবীদের হীনমন্যতার শিকার হন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী আইনজীবীদের সামান্য নারী হিসেবে গণ্য করায় তারা নানা ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে করে অনেক মক্কেল নারী আইনজীবীদের উপর ভরসা রাখতে না পেরে পুরুষ আইনজীবীদের কাছে ধরনা ধরে। যেটা নারী উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। বর্তমানে নারীরা পুুরুষের তুলনায় কোন অংশে পিছিয়ে নেই। মরিয়ম চম্পা