পরাজিত শক্তি বিচার নস্যাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত :প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৩২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরাজিত শক্তি আবারো জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার এবং জঙ্গিবাদের আশ্রয় নিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাতের অপতত্পরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ যখন ভৌত ও মানবিক উভয় ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে ও যুদ্ধাপরাধের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারের প্রচেষ্টা সফল পরিণতির দ্বারপ্রান্তে, তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি গোষ্ঠী জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে পুঁজি করে এই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, বিভ্রান্তি ও বিভক্তির বীজ ছড়াবার এই অপপ্রয়াস কখনো বাংলার মানুষ মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। কারণ, এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মান্ধ নয়। তারা একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণে বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে আরো ৬৯ জন বিদেশি বন্ধুকে ৪২ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অনন্য সমর্থন ও অবদানের জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদানকালে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী এই হূদয়বান মানুষদের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে যেমন এক নজিরবিহীন রক্তপাত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ; তেমনি নজিরবিহীন আমাদের বিদেশি বন্ধুদের অকুণ্ঠ সমর্থন’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই দুঃসহ কঠিন সময়ে বাংলাদেশের বিপন্ন, অত্যাচারিত ও অসহায় মানুষের আর্তি আপনাদের বিচলিত করেছিল। বহুদূরে থেকেও স্বাধীনতা ও ন্যায় বিচারকামী একটি জনগোষ্ঠীর পাশে এসে দাঁড়াতে আপনারা বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেননি। সে সময় আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার বড় বেশি প্রয়োজন ছিল এবং আপনাদের নিরলস প্রচেষ্টায় বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, অকুতোভয় বাঙালি জাতি এ নৃশংস হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই ক্রান্তিকালে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজসহ এমন কোন ঘৃণ্য অপরাধ নেই যা বাঙালি জাতির উপর নেমে আসেনি। মুক্তিকামী মানুষ তাদের নেতার ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।
সম্মাননা নিতে আসা বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিশ্চিত ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যেভাবে আপনারা সমর্থন দিয়েছিলেন, আজকেও একইভাবে একটি দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের নৈতিক সমর্থন প্রয়োজন। আশা করি, এই সমর্থন আমরা পাব।
বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার বড় বেশি প্রয়োজন ছিল। আপনারা এগিয়ে এসেছিলেন। আপনাদের নিরলস প্রচেষ্টায় বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছিল। এজন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী। এই ঋণ শোধ করার নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার, সম্মান ও মর্যাদার জন্য আমাদের আর্তি আপনারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। যা বিশ্ববাসীকে আমাদের দুর্দশা ও দুর্ভোগ অনুধাবনে সাহায্য করেছে। আমরা এজন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং চিরঋণী। এই ঋণ শোধ করার নয়। তবু কৃতজ্ঞতাবোধ হিসেবে এবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা বিদেশি বন্ধুদের পর্যায়ক্রমে সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করি।
শেখ হাসিনা বলেন, সমতা, গণতন্ত্র, সুষম উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বাঙালির স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছিল বিশ্বজনীন মূল্যবোধে উজ্জীবিত একটি সমতাভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, উদার ও উন্নত সমাজ ব্যবস্থা নির্মাণ, যা ব্যক্তি ও সমষ্টির সুপ্ত সৃষ্টিশীলতা বিকাশকে সাহায্য করবে। স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে এসব নীতি ও আদর্শের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে।
তিনি বলেন, এই আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ আজ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।