ত্বকীর প্রকৃত খুনিদের বাঁচাতেই আমাকে জড়ানো হচ্ছে

নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আবারো অস্বীকার করলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, ‘প্রকৃত খুনিদের বাঁচানোর জন্যই ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করছেন আইভী ও অতি বাম ঘরানার কিছু লোক। এ হত্যাকাণ্ডে আমার সক্রিয় অংশগ্রহণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা কোনোভাবেই সত্য না।’ তিনি বলেন, ‘হত্যার কারণ ভিন্ন দিকে নেয়ার বিষয়টিও অপরাধ। মামলার তদন্ত চলাকালে কাউকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেয়াটাও সঠিক কাজ না। তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া না হয়, তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।’ গতকাল রবিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে ত্বকী হত্যা নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শামীম ওসমান বলেন, ‘কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলেই অভিযোগের তীর আমাদের দিকে ছোঁড়া হয়; কিন্তু পরে গিয়ে তা অসত্য প্রমাণিত হয়।’ তিনি বলেন, ‘গত ২০ মার্চ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমাকে ও আমার ছেলে অয়নসহ ৭ জনকে জড়িয়ে নাম উল্লেখ করে পত্র দেয়। যেখানে বলা হয়, আমার ও অন্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণেই ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা হলো ৬ মার্চ ত্বকী নিখোঁজের আগে থেকেই আমি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলাম। এছাড়া ৮ মার্চ লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্তও আমি দেশের বাইরে ছিলাম। আমার পাসপোর্টে সে প্রমাণ রয়েছে।’ বিভিন্ন মিডিয়ায় পুলিশ সুপারের বক্তব্য দেয়ার বিষয়টিকেও আপত্তিজনক উল্লেখ করে শামীম বলেন, ত্বকী হত্যা ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনও চাপে রয়েছে। কারণ পুলিশ সুপার বলেছেন, ত্বকীর বাবার আবেদনের পরেই রিফাত নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে রিফাতকে গত ৯ অথবা ১০ মার্চ আটক করা হয়েছে। যা মিডিয়াতে প্রকাশিতও হয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার চাষাঢ়া শহীদ মিনারে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম-এর বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, যেখানে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে সারাদেশ শোক করছে, সেখানে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণার নেপথ্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি সেলিম ওসমান, সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল হক, বিকেএমইএ-এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে ত্বকী আর ফেরেনি। একদিন পর ৮ মার্চ সকালে শহরের চারারগোপের শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমান জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।