প্রতিবন্ধী দেখিয়ে অভিনেত্রী রাহার লাশ দাফন

সুমাইয়া প্রতিবন্ধী, তার মৃত্যু হয়েছে শ্বাসকষ্টে! এটা স্বাভাবিক মৃত্যু! তাই কোন পোস্টমর্টেম ছাড়াই আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হল। তার বাবার নাম মো. আলী আকবর। বাসা মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের ২৯/১৫ নম্বর বাড়ি। আজিমপুর গোরস্থানের খাতায় এমন সব তথ্যই লেখা হয়েছে মডেল ও অভিনেত্রী সুমাইয়া আজগার রাহার (২২) লাশ দাফনের সময়। আসলে তার বাবার নাম শেখ আজগার আলী। আর রাহা বাবা-মায়ের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের চানমিয়া হাউজিংয়ের ২ নম্বর সড়কের ৪১/সি মেঘহিল ভবনের চতুর্থ তলার বি-১০ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। কোন রকমের পোস্টমর্টেম ছাড়াই ভুল তথ্য দিয়ে মেয়ের লাশ দাফন সম্পর্কে শেখ আজগার আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম না মরে যাওয়া মেয়েটিকে নিয়ে কথাবার্তা হোক, আর সে কষ্ট পাক।’ কিভাবে রাহার মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার গভীর রাতে রাহা ঘুমাতে যায়। শনিবার সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়ালেও রাহা ঘুম থেকে ওঠেনি। অনেক ডাকাডাকি করেও তার কক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে আমি নকল চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখি রাহা নিথর হয়ে পড়ে আছে। তার চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে দিয়েও কোন লাভ হয়নি। পরে আমি এবং আমার স্ত্রী ফাতেমা বেগম মিলে দেখি রাহা আর নেই। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে রাহার দাফনের উদ্যোগ নিই।’ কিন্তু কিভাবে রাহার মৃত্যু হল সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি। আজিমপুর কবরস্থানের নিবন্ধক নুরুল হুদা ইত্তেফাককে জানান, গত শনিবার দুপুরে গোরস্থানে দু’জন নারীর লাশ দাফন হয়। এর মধ্যে একজন হলো রমনা এলাকার জনৈকা তাহসিনা আক্তার (৪৫)। তাহসিনা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান বলে তার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে লেখা ছিল। অন্যজনের লাশ আসে মোহাম্মদপুর থেকে। লাশের নাম নিবন্ধনের খাতায় লেখা হয় সুমাইয়া (২২)। বাবার নাম মো. আলী আকবর। নুরুল হুদা বলেন, সুমাইয়ার নিবন্ধনে তাকে প্রতিবন্ধী এবং হাঁপানি রোগী দেখিয়ে অভিভাবকের স্থানে জামাল উদ্দিন নামে একজন স্বাক্ষর করেন। জামাল উদ্দিন নিহতের বড় ভাই বলে পরিচয় দেন। নুরুল বলেন, তারা যোহরের নামাজের আগে এসে তড়িঘড়ি করে লাশের দাফন করে। লাশের দাফন করা হয় কবরস্থানের উত্তর-পশ্চিম পাশে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাহার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তার বাবা এই মৃত্যু নিয়ে লুকোচুরি করে রহস্য আরো ঘনীভূত করেছেন। আর কেউ আত্মহত্যা করলেও পোস্টমর্টেম করতে হয়। আর রাহার মত সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষ ঘুমাতে গেল আর ঘুম থেকে উঠল না, এটা কোন স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। ঘটনাক্রমে যে রাতে রাহার মৃত্যু হয়েছে ওই দিনই নায়ক অনন্ত জলিল ও নায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা দাম্পত্য কলহ নিয়ে মোহাম্মদপুর থানায় পাল্টাপালি জিডি করেন। এই নায়ক-নায়িকা দম্পতির সঙ্গে রাহা ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নায়ক অনন্ত’র সঙ্গে রাহারও দারুণ সম্পর্ক ছিল। রাহার মৃত্যুর সঙ্গে এই ঘটনার কোন সম্পর্ক আছে কি-না এমন প্রশ্নে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি বলেন, রবিবার সকালে পুলিশ আজিমপুরে গিয়ে সেখানে নিহতের ঠিকানা সংগ্রহ করে তাজমহল রোডের ওই বাসায় গেছে। তবে ওই ঠিকানায় রাহা বা সুমাইয়া নামে কেউ বসবাস করতো না। এমনকি কেউ মারাও যায়নি। এখন আসল ঠিকানা পাওয়ায় পুলিশ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি।