ডুমুরিয়ায় ঝড়ে ধূলিসাত্ শতাধিক বাড়িঘর

ডুমুরিয়ায় আকস্মিক দমকা ঝড়ে গত রবিবার ৫টি ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি ও মন্দির ধূলিসাত্ হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় থাকলেও কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। এদিকে ঝড়ে হিন্দুদের একাধিক মন্দির মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেগুলোতে পূজার্চনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিধ্বস্ত গ্রামগুলোতে ঝড়ের পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নিতে কেউ যায়নি। কোন পক্ষ থেকে সাহায্য না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেকে। বিধ্বস্ত মন্দিরগুলোতে পূণ্যার্থীদের যাতায়াত ও উপাসনা বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের জাবড়া গ্রামের সুধান্ন, রবিন ও সুধীরের বাড়ী ঝড়ের ছোঁবলে উড়ে গেছে। এছাড়া ওই এলাকার একমাত্র বড় হিন্দু উপাসনালয় পেড়ীখালী গ্রামের রাধাগোবিন্দ মন্দির (মুক্তি আশ্রম) ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে। রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি নিরঞ্জন হালদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঝড়ের পর এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউই খোঁজখবর নেননি। আমরা তাদেরকে ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছি।’ মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ মিলন বাছাড় এবং সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র বাছাড় বলেন, ‘আকস্মিক ঝড়ে এই এলাকার একমাত্র উপাসনালয়টি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সেখানে সনাতন ধর্মালম্বীদের পূজার্চনা বন্ধ হয়ে গেছে। এটি পুন:রায় পূজার্চনার যোগ্য করে তুলতে জরুরি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শক্তিশালী ওই ঝড়ে উপজেলার আটলিয়া, মাগুরাঘোনা, শরাফপুর, সাহস, ও ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক টিনের ঘর ও মন্দির ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সাহস ইউনিয়নের ঘোষগাতী গ্রামের হাফিজুর রহমান বিশ্বাস, হোসেন সরদার, গজেন্দ্রপুর গ্রামের জহুর ব্যাপারী, রেজাউল শেখ, রাহাজ উদ্দিন শেখ, কাদের সরদারের সহ ওই গ্রামের প্রায় ৫০টি টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আটলিয়া ইউনিয়নের অনিল কৃষ্ণ রায়, প্রফুল্ল তরফদার, নিখিল মন্ডল, মুড়াবুনিয়া গ্রামের বিধান মিস্ত্রি গোপাল মন্ডল, দ্বীনবন্ধু মন্ডলের সহ দুই গ্রামের প্রায় ৩০ টি ঘর ও তাদের একমাত্র উপাসনালয় গেলাপদহ গ্রামের বাসন্তী মন্দিরটি বিধ্বস্ত হয়েছে। ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের স্বপন সরদার, সুশান্ত বিশ্বাসসহ ওই গ্রামের আরো ৫টি ঘর ঝড়ে উড়ে গেছে। ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর জানান, তার এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কামরুল হাসান ইত্তেফাককে জানান, চেয়ারম্যানদের সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আঃ হাদী জানান, ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়নগুলো থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। আটলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, মাগুরাঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান তসলিম, শরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, সাহস ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা দুই এক দিনের মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দপ্তরে জমা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।