জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে
কঠোর কর্মসূচি দেবে
গণজাগরণ মঞ্চ
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৮
আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে সরকার যদি গড়িমসি করে তবে কঠোর অবস্থানে যাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে পথে নেমে আসা তরুণরা। তবে যে কোন অবস্থাতেই আন্দোলনের ভাষা হবে অহিংস। সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসিসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন চলমান রয়েছে গণজাগরণ মঞ্চের।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এ আন্দোলন গতকাল রবিবার ৪৮দিন পার করল। আন্দোলনের দেড় মাসের বেশি সময় পার করে এখন নতুন করে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছেন মঞ্চের উদ্যোক্তারা। ২৬ মার্চ অর্থাত্ আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আলটিমেটাম দিয়েছিল এ মঞ্চ।
আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলছেন, অহিংস উপায়ে ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের উপায় নির্ধারণ করতে পরিকল্পনা করছে মঞ্চ। আন্দোলনের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত অর্জনে উদ্যোক্তাদের অধিকাংশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও কর্মী পর্যায়ে অনেকে হতাশাও ব্যক্ত করেছেন। তবে দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রত্যেকেই।
ছয় দফার পক্ষে আজ ২৫ মার্চের রাতে মৌন পদযাত্রা ও আলোর মিছিল করবে আন্দোলনরতরা। মঞ্চের উদ্যোগে ২৬ মার্চ সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং বিকাল চারটায় মুক্তিযোদ্ধা-জনতা মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের মধ্যে আল্টিমেটাম অনুযায়ী জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া সরকার দৃশ্যমান না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন মঞ্চের সংগঠকরা।
এদিকে, কী ধরনের কর্মসূচি ঘোষিত হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আজ (গতকাল) রাতে আমরা মঞ্চের সংগঠকরা একটি বৈঠক করবো। ঐ বৈঠকে পরিকল্পনা নির্ধারণ করার চেষ্টা করবো। আমাদের কর্মসূচি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইমরান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে আমরা মাঠে নেমেছি। এ কাজ সম্পন্ন করেই ঘরে ফিরবো। এর আগে আন্দোলন থামবে না।
এ প্রসঙ্গে মঞ্চের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, জাগরণের পর্ব শেষ। এখন প্রতিরোধের পর্ব শুরু।
“হেফাজতের ব্যাপারে চিন্তা নেই”
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে আগামী ৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইমরান এইচ সরকার বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার অধিকার যে কারো রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তুু তারা রাজি হয়নি। তাই তাদের লংমার্চের ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। আইন-শৃংখলা ভঙ্গ করলে নিশ্চয়ই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
বিস্তৃত কর্মসূচির বিপক্ষে মত অনেকের
এ প্রসঙ্গে ব্লগার মাহবুব রশিদ বলেন, শুরু থেকে যে দাবি আদায়ে সবাই একত্রিত হয়েছি তা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। জাতীয় রাজনীতি নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে তাল মিলিয়ে মঞ্চকেও পথ চলতে হবে।