একাত্তর মনে হলে
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৩, ১৯:২৭
একাত্তর মনে হলে মাকে মনে পড়ে। মার্চ মাস ফিরে এলে
স্মৃতিতে ঝাঁকুনি লাগে; লাখো মানুষের ভিড়ে বঙ্গবন্ধুর
সেই বজ্রকণ্ঠ কী যে সাহসের আগুন ছড়িয়ে দেয় রক্তকণিকায়
আতঙ্কপীড়িত দুঃসময় পাড়ির সময় ফিরে আসে স্নায়ুকোষ।
মাকে হারিয়েছি সেই কবে! দেশকে ভাবতে গেলে ফিরে পাই তাঁকে।
দুঃসময় আর সুসময় কী রকম একাকার! আর কোনোদিন
এমন সময় তুমি পাবে না কখনো ফিরে—ও আমার প্রিয় বংশধর।
যুদ্ধে যেতে যেতে প্রকৃতিরও ভালোবাসা দেখে আপ্লুত হয়েছি একদিন
এক একটা বাঙ্কার থেকে আরেক বাঙ্কারে গেরিলা যুদ্ধের দিনে
বিদায় জানাত ঝোঁপঝাড়, জঙ্গল আড়াল দিত শত্রুর বিপদ
থেকে। রাতে আতঙ্কে নিস্তব্ধ গ্রামে জোনাকি-ঝিঁঝির ঝিল্লিরব
মনে হতো ‘আমার সোনার বাংলা’ জাতীয় সঙ্গীত হয়ে বাজে।
একাত্তর মনে হলে কত যে হারানো প্রিয় স্বজনের মুখ মনে আসে
সেই সব দিনরাত্রি অশ্রু আর দীর্ঘশ্বাসে, আতঙ্কে ও ক্রোধে
কী আশ্চর্য মিশ্র অনুভূতি! রক্তেও জ্বলন্ত ছিল শত্রু নিধনের স্পৃহা
আজ মনে হয় মাকে অপমান করা শত্রুর সঙ্গেই ভুল মিত্রতা আমার!
নিজেকেই ঘৃণা আজ এই দুঃসময়ে, আরও এক মুক্তিযুদ্ধ কালে
আমার সন্তান ক্ষমা করেনি তো এই ভ্রান্তি, তারা আজ প্রতিবাদে জ্বলে।