শ্রমিক অধিকার প্রশ্নে
সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়ার
পরামর্শ মজীনার
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৫
দেশে বিরাজমান শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের শুনানিতে সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়ার জন্য পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কী করেছে, আর কী করতে পারেনি- শুনানিতে কেবলমাত্র তা-ই তুলে ধরতে হবে। গতকাল সোমবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরে (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে অভিযোগের জবাব দিতে আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটন যাচ্ছে বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
জানা গেছে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তা ও অধিকারসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে ইউএসটিআরের কাছে অভিযোগ দায়ের করে মার্কিন শ্রম অধিকার সংগঠন এএফএল-সিআইও। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ার আশংকা রয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা বলেন, যেসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, তার মধ্যে শিশুশ্রম ও শ্রমিকদের ওভারটাইমসহ কয়েকটি’র সমাধান হয়েছে বলে আমার ধারণা। তবে শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার এবং কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা অভিযোগের জবাব ও আমাদের নেয়া পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করেছি। চিংড়ি ঘেরে এখন আর শিশু শ্রমিক নেই। আমিনুল হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন নিয়ে আমাদের আন্তরিকতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন নিয়ে আমাদের বক্তব্য তাদের বোঝাতে সক্ষম হবো বলে আশা করি। তিনি বলেন, আমরা এখন কোন কমপ্লায়েন্সবিহীন (কারখানায় উন্নত কর্ম-পরিবেশ) কারখানাকে বিজিএমইএ’র সদস্যপদ দিচ্ছি না। সেটিও শুনানিতে উপস্থাপন করবো। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বিজিএমইএ’র নতুন সভাপতি আতিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের গার্মেন্টস পণ্য জিএসপি সুবিধা পায় না। তবে জিএসপির আওতায় অন্য কয়েকটি পণ্য মাত্র দশমিক ৫৪ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। আর এটা বাতিল হলে ইউরোপসহ অন্য বাজারে আমাদের গার্মেন্টস সম্পর্কে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে আশংকা গার্মেন্টস মালিকদের। প্রতিনিধিদল এবার দেশটির বাজারে বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চাইতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় আইন কার্যকর করার তাগিদ
এদিকে প্রতিবন্ধী দিবসকে সামনে রেখে গতকাল ‘প্রতিবন্ধকতা-অন্তর্ভুক্ত কূটনীতি’ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনায় ড্যান মজীনা বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষার জন্য আইনকে কার্যকর করা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় অবদান রাখবে এমন যে কোন প্রকল্পে ইউএসএইড সহায়তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আমেরিকান সেন্টারে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত এই আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজ কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন হ্যান্ডিকাপ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি ডেভিড লোয়েন এবং ফুলব্রাইট গবেষক সোফিয়া নিউম্যান।
সোফিয়া নিউম্যান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কোন নীতিমালা নেই। এ বিষয়ক ভারতীয় আইন (১৯১২) পুনর্গঠনের সুপারিশ করেন সোফিয়া। ডেভিড লোয়েন প্রতিবন্ধীদের অবস্থার পরিবর্তনে নীতি নির্ধারকদের আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান। রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের প্রস্তাবনায় স্বাক্ষরকারী ১২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মত বাংলাদেশও প্রতিবন্ধীদের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।