আমার কথা
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৩০
পরিবারে সাহিত্য চর্চাটা ছিল আদি থেকে। দাদু বিখ্যাত পণ্ডিত, বড় চাচা বাংলা সাহিত্যের সুখ্যাত ছান্দিক কবি কাজী কাদের নওয়াজ। অন্য চাচারাও গদ্য-পদ্য চর্চা করত। আর ছোটবেলায় দেখেছি বড় ভাই ‘শিসকলম’ নামে একটা মাসিক ঘরোয়া দেয়াল পত্রিকা বের করতেন। আঁকিয়ে-লিখিয়েরা ছিলাম আমরা—পরিবারের সদস্যরা। বড় ভাই বলতেন, একটা কবিতা লিখ্। কী হতো কি না হতো বুঝতাম না, দেয়াল পত্রিকায় ছাপা হতো। ক্লাস টু থেকেই অলেখাটা শুরু।
লেখালেখিটা পরিবারের একটা ধারাবাহিক ব্যাপার ছিলো। ভাবতাম এটা আমার করা উচিত। অনেকটা খেলার মতো। এই লেখালেখির খেলাটায় কোনো বাধা ছিলো না। এই বাধা না পাওয়াটাই এক ধরনের প্রেরণা। তাছাড়া বড় চাচা কবি কাদের নওয়াজ ছিলেন নিঃসন্তান। তার স্নেহ এবং আশকারা পেয়েছি প্রচণ্ড। তিনি বলে যেতেন, আমি লিখতাম। নানা ধরনের ভাবনা, ছন্দের বাহারি খেলা, নানা অজানা শব্দ, উপমার চমক; এগুলো আমি তার কাছ থেকে জেনেছি। এবং তিনি কোনো কিছু নিয়ে আমাকেও লিখতে বলতেন। লিখে বাহবার চাইতে বকা পেয়েছি বেশি। হয়তো গ্রীষ্মে শিউলি ফুল ফুটিয়ে দিয়েছি কবিতায়। ফলে প্রকৃতিকে না জানার অজ্ঞতায় আমাকে ভর্ত্সনা করতেন। বলতেন, কবিতা লিখতে হলে পড়তে হবে, প্রকৃতিকে জানতে হবে, পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। নইলে মূর্খ হয়ে থাকবে। কবিরা মূর্খ হলে বড়ো লজ্জার।
পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ ছিলো না। পাবলিক লাইব্রেরিতে বিকেলে ছোটদের পত্রিকা আর নানা কিসিমের বই পড়তাম। মেরি ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড, গ্রেট এক্সপেক্টেশন, লা মেজারেবল, এরপর আঙ্কল টমসকেবিন, অস্কার ওয়াইল্ড, অ্যান্ডারসেন ইত্যাদি সিক্স-সেভেনে থাকতেই পড়ে ফেলেছি। আর বাঙালিদের বই তো অনেক পড়েছি। অনেক বই আমার প্রিয়। আমাদের সুকুমার রায়, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার লেখালেখির ভাবনাকে উসকে দিয়েছেন নানাভাবে।
আমার বইয়ের সংখ্যা সব মিলিয়ে দেড়শ বোধহয় ছাড়িয়ে গেছে। ছোটদের জন্য লেখা প্রথম বই ‘আমার একটা আকাশ ছিলো’। এই কিশোর কাব্যটা ব্যাপকভাবে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আর ‘মনটা তখন মন থাকে না’, ‘মা সত্য দেশ সত্য’- কিশোর কবিতার দুটি ভালো বই বলে অনেকে আমাকে জানিয়েছেন। গদ্যের মধ্যে উপন্যাস-‘মধ্যরাতের আগন্তুক’, ‘আমাদের একটা পাখি আছে’, ‘ঝুমঝুমপুর রহস্য’- এ কয়টা বই একাধিক সংস্করণ বেরিয়েছে। অনেক বই বের হলে কি হবে আমার মনমতো কোনো লেখাই এখনও লিখতে পারিনি। আমি হইচই হল্লা-হট্টগোল অপছন্দ করি। যারা করে তারা লেখা না লিখেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আমার জনপ্রিয়তা একেবারেই শূন্যের ঘরে।