ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ট্যুর মানেই অন্যরকম কিছু
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫০
ট্যুর মানেই অন্যরকম কিছু...যাবো যাবো বলে অনেকদিন ধরেই চলছিল পরিকল্পনা। কোথায় যাবো, কত মজা করবো, কার কী দায়িত্ব থাকবে, কেউবা কোনো দায়িত্ব নিয়ে না শুধু আনন্দ করবে। কত মিটিং...। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারসিয়ান ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার ডিপার্টমেন্টের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে হাদী স্যার ডাকলেন ফাইনাল মিটিং। সিদ্ধান্ত হলো ৪ রাত ৩ দিনের জন্য কক্সবাজার, হিমছড়ি, ইনানী বিচ, সেন্ট মার্টিন ও ছেড়াদ্বীপ যাওয়া হবে। তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ট্যুরের যাবতীয় ব্যবস্থার জন্য নেয়া হলো সময় একমাস। এসো মিলে একসাথে, ঘুরে আসি সাগরের টানে কক্সবাজারে... দেশকে আরো ভালো করে দেখা আর জানার আগ্রহে...
সকালের সূর্যটা পুবদিকে উঠার সাথে সাথে যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারসিয়ান ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার ডিপার্টমেন্টের ছাত্র-ছাত্রীরা এক আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকলো, কারণ গত কয়েক বছর ডিপার্টমেন্টের কোনো ট্যুর এতো দূরে হয়নি নানান জটিলতার কারণে। অবশেষে তাদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের সূচনা হলো যখন রাত ১০.৩০ বাস ছাড়লো অপরাজেয় বাংলা থেকে। এরপর পৌঁছে গেলাম কক্সবাজার। আগে থেকে হোটেল বুকিং করা ছিল...রুম বুঝে নেয়ার পর ফ্রেশ হয়ে জটপট নাস্তা খেয়ে বাহা উদ্দিন স্যারের নেতৃত্বে সবাই ছুটলাম সমুদ্র দেখতে। সাগরকে হার মানানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে একদল তরুণ-তরুণী। ঝাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে আর ফাঁকে ফাঁকে ডিজিটাল ক্যামেরায় চলছে ফটোসেশন। পরে যাত্রা শুরু সেন্ট মার্টিনে। কেয়ারি সিন্দাবাদে আনাস আর রেখা টাইটানিকের নায়ক-নায়িকা হয়ে গেলো। মজনু হলো সবুজ, লিয়াকত আর কামাল হয়ে গেল কবি, জাকির ভাই অলটাইম স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকায় থাকলেন। এরপর সেন্টমার্টিনে পৌঁচ্ছে হুমায়ুন আহমেদের বাড়ি ‘সমুদ্র বিলাস’ ফটোসেশন আর পায়ে হেঁটে পুরো সেন্ট মার্টিন ঘুরে দেখার কাজ সারলো সবাই। রাতে হলো বন ফায়ার আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপস্থাপনায় জনী আর রাজীব। নানা-নাতিনের ভূমিকায় তাদের সাবলীল উপস্থাপনায় তারিক স্যার গান গেয়ে শোনালেন...এই নীল মনিহার, তোমায় দিয়ে গেলাম..শুধু মনে রেখ...। পরদিন সকালে ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে ছেড়াদ্বীপ। পুরো দ্বীপে ঘুরে আর ডাব-কলা খেয়ে ফিরলাম রুমে। এখন ফিরার পালা। বাস ঢাকার দিকে এগিয়ে চলছে... যত কাছে আসছি ঢাকার...মনে হলো জীবনের ডায়রীতে আরো কিছু আনন্দ নিয়ে ফিরছি সবাই।