হঠাত্ ক্যাম্পাসে
যেনো তারুণ্যের হাট
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫১
সবাইতো সবার বন্ধু। ভালো লাগা। আছে মন্দ লাগারও ব্যাপার। কথামালার ফাঁকে ঝালমুড়ি খাওয়া। সারাদিন চলে অবিরাম আড্ডা। চলছে দেশের চলমান পরিস্থিতিসহ তারুণ্যের নানান কথামালা। আর কিছু স্বপ্ন নিয়ে কিছুটা সময় পার করে যুক্তি-তর্কের। যেন একটুরো তারুণ্যের হাট। আর এই তারুণ্যের হাটে পাওয়া না পাওয়ার গল্প। আনন্দ-বেদনার উপাখ্যান। আর ভালোবাসার খুঁনসুঁটি। শোনা গেল না পাওয়া আক্ষেপ। দীর্ঘশ্বাস। অনিশ্চিত আগামীর উত্কণ্ঠা। আর কিছু পাওয়ার আনন্দের উচ্ছ্বাস। এখানকার শিক্ষার্থী সানু বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনকার কথা। ঠিক এরকম, ‘পরিবার ছেড়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রথম ঢাকা শহরে আসা এবং থাকা-খাওয়ার কষ্ট। তবে এখন বেশ মানিয়ে নিয়েছি’। একটু হেসে বলেন, ‘বন্ধুরাই আমার পরিবার-পরিজন। যাদের নিয়ে কাটে দিন-রাত্রি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আমাদের তো আর হল নেই’। অনুযোগের সুরে রাইসা বলেন, ‘ক্লাস শেষে আমরা একটু খোলা আকাশের নিচে সবুজ ঘাসে বসে প্রাণ খুলে আড্ডা দিতে পারি না। সবুজের মাঝে বিচরণ করতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয় ইট-কাঠের এই শহরে যেন আমরা বন্দি।’ সাকিব বলেন, ‘আড্ডা দেয়ার ভালো কোন জায়গা নেই। আমাদের ইনডোরে খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকলে সিঁড়িতে বসে আড্ডা দিতে হতো না।’
অনেক গল্পের মাঝে শুনতে পাই বন্ধুর গল্প। কবিতা, গল্প-গান চর্চা আর ভালো লাগার বিভিন্ন গল্প। সময় কাটে বই পড়ে, গান গেয়ে, আড্ডা দিয়ে, প্রেম ভালোবাসার খুনসুটিতে। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত শুরু হতেই সবাইকে তাড়া করে বাসায় ফিরে যাবার। দলে দলে কিংবা একা একা বাসার দিকে যাত্রা। মিছেমিছি রাগ, মান-অভিমান ভাঙ্গানো আর রোমাঞ্চিত হওয়ার নাম ক্যাম্পাস। প্রিয় ক্যাম্পাসকে ঘিরে এভাবেই সাজে জীবন। রচিত হয় জীবনের সব গল্প।
সূর্য উঠলেই দিনের শুরু। আর ডুবলেই দিনের সমাপ্তি। তবুও চলবে পথচলা। স্বপ্ন পূরণে ও সুন্দর আগামীর সন্ধানে। স্টামফোর্ড বিশবিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আত্মার সাথে ক্যাম্পাস কখন যে মিশে গেছে হয়তো তারা নিজেরাও জানে না। তবুও চলে আসে বাসায় ফেরার ডাক। আর মনের ঘরে উকি মারে ক্যাম্পাসে ফেলে আসা স্মৃতি। হয়তো তাই ভেবে একদল তরুণ সিঁড়ির গোডায় গেয়ে উঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো যায় হারিয়ে যায়, উজ্জ্বল বর্ণালি দিনগুলো মিলিয়ে যায় হাওয়ায়...।