উদ্ভাবন

পুরাতন ভবনের কংক্রিট ফেলনা নয়!

ভূমি স্বল্পতার কারণে পুরাতন ও অপেক্ষাকৃত কম উচ্চ ভবন ভেঙে বাড়ছে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ। ফলে সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে একদিকে বাড়ছে কংক্রিটের (ইট, বালি, পানি আর সিমেন্টের মিশ্রণ) চাহিদা, অপরদিকে বাড়ছে কংক্রিট বর্জ্য। জানা যায়, প্রতি বছর ভবন, সেতু, মহসড়ক, বাঁধসহ বিভিন্ন পুরকৌশল বিষয়ক নির্মাণে গড়ে ১২ বিলিয়ন টন কংক্রিট দরকার। যার জন্য ১০ বিলিয়ন টন এগরিগেট (ইট, পাথর) প্রয়োজন। ফলে ইট তৈরি, পাথর উত্তোলন এবং কংক্রিট বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে, বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। তাই পরিবেশ দূষণ ও নির্মাণ ব্যয় কমাতে নতুন ইট বা পাথরের কিছু অংশের পরিবর্তে পুরাতন কংক্রিটের একাংশ পুনঃব্যবহার করে তৈরি করা কংক্রিটের শক্তি নিয়ে গবেষণা করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে সদ্য পাস করা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান খান ও কায়সার আহমেদ। জানা যায়, পুরাতন কংক্রিট সাধারণত ফেলে দেয়া হয়। এর কোনো বাজার মূল্য নেই। তাই নতুন ইট বা পাথরের কিছু অংশের পরিবর্তে পুরাতন কংক্রিট ব্যবহার করলে নির্মাণ খরচ কমবে। গবেষণায় দেখা যায়, কোর্স এগরিগেটের (ইট, পাথর) কিছু অংশের পরিবর্তে পুরাতন কংক্রিটের একাংশ পুনঃব্যবহার করে কংক্রিট তৈরি করলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড কম নিঃসরণ হবে। অপরদিকে পুরাতন কংক্রিট পরিবেশে ত্যাগ করার ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ পুরাতন কংক্রিট কোর্স এগরিগেটের কিছু অংশের পরিবর্তে ব্যবহার করা গেলে একদিকে কমবে পরিবেশ দূষণ অপরদিকে কমবে নির্মাণ খরচ। ফলে পুরাতন কংক্রিটের পুনঃব্যবহার হবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সহায়ক। গবেষকরা জানান, তারা ১০০ :০, ৭৫ :২৫, ৫০ :৫০, ২৫ :৭৫, ০ :১০০ এ পাঁচটি অনুপাতের নতুন ও পুরাতন কংক্রিটের মিশ্রণ ব্যবহার করে তৈরি করা কংক্রিট সিলিন্ডার ও বিমের শক্তি পর্যবেক্ষণ করেন। তৈরিকৃত নমুনাগুলোর বিভিন্ন পরীক্ষা ও গুণগত মান বিচার করে দেখা যায়, বিভিন্ন অনুপাতের মিশ্রণের মধ্যে ৭৫ :২৫ অনুপাতের নতুন ও পুরাতন এগরিগেটের মিশ্রণ সবচেয়ে ভাল ফলাফল প্রদর্শন করে। এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, নতুন ইট বা পাথরের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পুরাতন কংক্রিট দ্বারা অপসারণ করলে যে শক্তিসম্পন্ন কংক্রিট পাওয়া যায় তা দ্বারা নির্মাণ কাজ করা সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে পুরাতন কোর্স এগরিগেটের (ইট, পাথর) ঘনত্ব ২১০০ কেজি/ঘনমিটারের বেশি, শোষণ ক্ষমতা ৫০%-এর কম এবং অপদ্রব্য ১%-এর কম হওয়া দরকার। এ গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওমর ইমাম।