মেধাবীর গল্প
‘দেশের জন্য কিছু করতে চাই’
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫৩
ছেলেটির নাম রানা আব্বাস। চোখে স্বপ্নের অঞ্জন বুলিয়ে গ্রীষ্মের এক তপ্ত দুপুরে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগে। বাবার চাকরির সূত্রে পড়াশোনা করতে হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। বাবা-মা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো ফলাফল অর্জনে নিয়মিত ক্লাশ, পড়াশোনা ও লাইব্রেরি ওয়ার্ক করেছেন। ফল মিলেছে হাতেনাতেই। অনার্সে প্রথম হয়েছেন কোন ধরনের ‘মানোন্নয়ন পরীক্ষা (ইমপ্রুভমেন্ট/সাপ্লিমেন্ট)’ ছাড়াই। যা ওই বিভাগে একটি রেকর্ড। অনার্সের ফলাফলের জন্য পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি। মাস্টার্সে অর্জন করেছেন ২য় অবস্থান।
রানার সরল কথা, ‘বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ বিভিন্ন পর্যায়ে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। এক্ষেত্রে ড. অলক পাল স্যারের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়।’ রানা বলেন, ‘বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আমরা কাছে নোট চাইতে এসে হতাশ হতো। কারণ আমার কাছে সেভাবে কোন নোট ছিল না। সত্যি বলতে কি, নোট করে পড়ার অভ্যেস ছিল না! এক্ষেত্রে বই ছিল মূল ভরসা। আসলে বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা খুবই জরুরি।’ পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত থেকেছেন সক্রিয়ভাবে। ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম-সভা-সেমিনার-ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। প্রথমবর্ষ থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা-ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশ হয়েছে বহু নিবন্ধ। ছাত্রজীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। সৃজনশীল লেখালেখিতে তুমুল আগ্রহ আছে ছেলেটার। শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে গল্প লিখে পেয়েছেন পুরস্কার। এরই মধ্যে তার রচিত গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে টিভি নাটক। সর্বোপরি, লেখালেখি এবং গবেষণা— দুইয়ের প্রতি ভীষণ আগ্রহ।গবেষক হবেন নাকি লেখক— এমন প্রশ্নের জবাবে ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে বললেন, দুটোই হতে চাই! তবে বুক পকেটে যে স্বপ্নটি রানা সব সময় জমিয়ে রাখেন— ‘দেশের জন্য কিছু করতে চাই; সে যে পেশায় থাকি না কেন!’