বিনোদন সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে নায়ক অনন্তের নতুন স্বীকারোক্তি
জিডি প্রত্যাহারের সময়ই আমাদের ডিভোর্স হয়েছে
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২০:১৬
অবশেষে মিডিয়ার সামনে আলাদা প্রেস কনফারেন্স করেই বিস্তারিত জানালেন অনন্ত। তবে বারবার বিভিন্ন বক্তব্যে এখনও বুঝা ভার কোনটি আসলে সত্য বক্তব্য। কারণ প্রথমদিকে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর চাউর হয়, অনন্তের বিরুদ্ধে বর্ষা জিডি করেন। পরে জানা যায় অনন্তই আগে নাকি থানায় জিডি করেছেন। এরপর আবারও ই-মেইলে ও প্রেস রিলিজে খবর আসে তারা দুজনই জিডি প্রত্যাহার করেছেন। এরপর বিনোদন প্রতিদিন-এর বিশেষ সাক্ষাত্কারে অনন্ত জানান যে, ‘তারা জিডি প্রত্যাহার করলেও আলাদা থাকছেন। এবং এটা তাদের স্রেফ সাংসারিক মনোমালিন্য। খুব শিগগিরই তারা এক হবেন। আবারও একসাথে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন। কিন্তু গতকাল মুনসুন ফিল্মসের এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন, ‘আসলে বর্ষার চাপে জিডি প্রত্যাহারের সময়েই নাকি তাদের দুজনার সমঝোতায় ডিভোর্সটা হয়ে যায়। এরপর তারা আলাদা আলাদা ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন। পরে এটা সময়ের ব্যাপার, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে এই আশায় অনন্ত মিডিয়ার কাছে তথ্যটি গোপন করেন। কিন্তু গতপরশু অর্থাত্ ২৫ মার্চেই জেট এয়ারওয়েজে বর্ষা অনন্তকে ফাঁকি দিয়ে কলকাতা চলে যান। সেখানে কলকাতার একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন বলেন অনন্ত তথ্য দেন। যাওয়ার আগে শুধু একটি সৌজন্য মেসেজ দিয়ে যান বর্ষা অনন্তের মোবাইল নম্বরে। তাই এই অবস্থায় অনন্ত তার পূর্ব গোপন কথাটি আর গোপন রাখতে পারেননি বলেই প্রেস কনফারেন্স ডাকেন। সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক প্রথম আলোর বিনোদন প্রতিবেদক মানজুর কাদের জিয়া প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বারবার মিডিয়ার সাথে এমন নাটক কেন করছেন। বারবার ভুল তথ্য দিয়ে কেন আমাদের বিভ্রান্ত করছেন? এখানেও শুধু আপনার বক্তব্যই আমরা পাচ্ছি। বর্ষার কোনো বক্তব্য নেই কেন? তার বক্তব্য শোনানোর বা তার সাথে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা করা যায় কিনা? এমন একাধিক বিনোদন সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে চলচ্চিত্র প্রযোজক-অভিনেতা এম এ জলিল অনন্ত বলেন, ‘আমারও একই প্রশ্ন। কার প্ররোচনায় বর্ষা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিল। আমি অন্য সবার মতোই আশাবাদী ছিলাম আবারও বর্ষার সাথে সংসারী হওয়ার ব্যাপারে। কারণ ওকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম বলেই এত ঘটা করে হেলিকপ্টার নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করেছিলাম। আমার ধারণা ছিল যে, বর্ষা তার ভুল বুঝে ফিরে এলে তখন শরীয়ত মোতাবেক আবারও সংসার শুরু করব আমরা। কিন্তু যখন দেখলাম সে আমাকে ফাঁকি দিয়ে কলকাতা চলে গেল। তখন আপনাদের না জানিয়ে পারলাম না।’
পাক্ষিক আনন্দধারার প্রধান প্রতিবেদক ঝুটন চৌধুরী প্রশ্ন করেন, তবে কী আপনার আগামী ছবিতে বর্ষাকে রাখবেন কিনা। বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আছে কী না? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘দেখুন এখন এই অবস্থায় আবারও ফিরে এসে বর্ষা যদি ভুল বুঝতে পারে, সেক্ষেত্রে শরীয়ত মোতাবেক যদি আবারও ছবি করা যায়, আপনারা যদি বলেন আমার তা করা উচিত, তবে করব। এমন নানান প্রশ্নের জবাবে অনন্ত বারবার বলেন, ‘আমি আমার সংসারটা আবারও সাজানো গোছানোভাবে ফিরে পেতে আশায় বুক বেঁধেছিলাম। বর্ষার মা বোন সবাই ওকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে। যেখানে ওর ছবি এখন আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান পাচ্ছে, সেখানে কার ইন্ধনে সে কলকাতার ছবির শুটিং করতে গেল সেটিই আমার কাছে বড় প্রশ্ন। এ পর্যায়ে ইনকিলাবের বিনোদন সাংবাদিক কামরুল হাসান দর্পন প্রশ্ন করেন, ‘এখন ছবিতে কাজ করার বিষয়টা তো ব্যক্তিগত নয়, আপনি প্রফেশনালি তাকে আপনার ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ তে কাস্ট করবেন কিনা? এটা জানতে চাইলে অনন্ত বলেন, ‘কিছুদিন আগেই তামিলনাড়ুতে আমরা শুটিং করে এসেছি। এবং গহীন অরণ্য ও পাহাড়ি এলাকায় র্যাম্বো স্টাইলে যে অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং করেছি আমরা দুজন, তা আবার রিশ্যুট করা ব্যয়সাপেক্ষ, সময়সাপেক্ষ যা আমার পক্ষে সম্ভব না। এখন সে যদি আবার আমার ছবিতে কাজ করতে চায়। তবে করতে পারি।’
এ ছাড়া প্রয়াত মডেল রাহার মৃত্যুর সাথে তাকে জড়ানোর বিষয়টা পুরোপুরি মিথ্যাচার বলে দাবি করেন অনন্ত।
তাই প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়ার সাথে সর্বশেষ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অবশেষে অনন্ত স্বীকার করলেন তাদের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়েছে। এখানে বর্ষার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি অনন্ত এই ষড়যন্তের জন্য কাকে সন্দেহ করছেন তার কথাও বলেননি। স্কাইপি বা বর্ষার সেলফোন চেক করে কার নাম পেয়েছেন তাদের নামও বলতে চাইছেন না তিনি। একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের নাম বিভিন্ন মিডিয়ায় এলেও সে বিষয়ে অনন্ত বলেছেন, ‘আমি কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি করতে চাই না। হ্যাঁ , আমি দেখেছি একজন ক্রিকেটারের সাথে তার দীর্ঘদিনের স্কাইপি চ্যাট। তবে এটা যেহেতু গর্হিত কাজ। পরকীয়ার মতো ঘৃণ্য কাজ বলে তার নাম বলে আমি সেই খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাই না।’
সবশেষে সবার কাছেই অনুরোধ করে তিনি সহযোগিতা চেয়েছেন মানসিক এই বিপর্যয়ে তার পাশে থাকার জন্য।