শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

সংবিধান সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান সমুন্নত রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদিকে যুদ্ববিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন করেছেন, অন্যদিকে জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দিয়েছেন। জাতির পিতার কাছ থেকে পাওয়া সেই সংবিধান সমুন্নত রেখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। স্বাধীনতার চেতনা প্রতিষ্ঠা ও জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দর্শনীয় মার্চপাস্ট ও বর্ণাঢ্য শারীরিক কসরতও প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমার মতো তোমরাই হবে প্রধানমন্ত্রী, দেশের কর্ণধার। আমরা তো বুড়ো হয়ে গেছি। তোমাদেরকেই আগামীতে দায়িত্ব নিতে হবে। তোমরাই হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার ‘সোনার সন্তান’ দেশের ভবিষ্যত্ নেতা। শিশুদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, তোমরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে। একই সঙ্গে দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়াবে। তোমরা দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তোমাদের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা এবং বেড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা আমরা নিশ্চিত করেছি। শিশুদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার পাশাপাশি জাতির পিতা শিশুদের কল্যাণে অনেক কাজ করে গেছেন। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন এবং আমাদের সংবিধানেও শিশুদের জন্য রাষ্ট্রকে বিশেষ বিধান প্রণয়নের বিষয়টি তিনি সংযোজন করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বৃত্তি প্রথা চালু করেছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করেন এবং সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এর শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সরকার জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ এবং জাতির পিতা প্রণীত শিশু আইন অনুযায়ী একটি যুগোপযোগী ‘জাতীয় শিশুনীতি’ প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, আমরা বছরের শুরুতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, শিশুদের উপর সকল ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ, আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থাসহ শিশুবান্ধব শিক্ষাদান পদ্ধতি চালু এবং শিশুদের লেখাপড়ার সুযোগ বৃদ্ধি করেছি। ফলে এখন প্রায় শতভাগ শিশু স্কুলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পথশিশু, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু, বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া শিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালে মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্য্র ও নিরক্ষরমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তাঁর সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজ যারা শিশু-কিশোর, ২০২১ সালের মধ্যে তোমরা বড় হবে। তোমাদের প্রতিভা ও মেধা দিয়ে এই দেশকে সাজিয়ে তুলবে। মার্চ মাসের তাত্পর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ বাঙালিদের গর্বের মাস। এ মাসে আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার লালসূর্য ছিনিয়ে এনেছি। ঔপনিবেশিক শক্তি দীর্ঘদিন আমাদের শাসন ও শোষণ করেছে। পাকিস্তানি শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছর আমরা সংগ্রাম করেছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শুভেচ্ছা হিসেবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মিষ্টি, ফুল ও ফুলের তোড়া পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে অবস্থানরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মিষ্টি, ফুল ও ফুলের তোড়া পৌঁছে দেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের মিষ্টি, ফুল ও ফুলের তোড়া পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি সবসময় আমাদের খোঁজ-খবর নেন। তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাঁর প্রতি আহ্বান জানান।