কার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল সেই সাড়ে ছয় মিনিটে?

মারা যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মেহেরুন রুনি তার মোবাইল ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন। সাড়ে ছয় মিনিট তিনি কার সঙ্গে এবং কী কথা বলেছিলেন সে রহস্য এখনও অজানাই রয়ে গেছে। সাড়ে ১৩ মাসেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি তদন্ত কর্তৃপক্ষ। হত্যা মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ র্যাব জানায়, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার পর রুনির মোবাইল থেকে সাড়ে ছয় মিনিট কথা হয়েছিল। কিন্তু রুনি কার সঙ্গে ফোনালোপ করেছেন এতোদিনেও থানা পুলিশ, গোয়েন্দা ও র্যাব তা উদঘাটনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সাগর-রুনি দম্পতি রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নিহত হন। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, রুনির মোবাইল ফোনের কললিস্ট অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ২৫ মিনিট থেকে সাড়ে ৬ মিনিট অপর একটি মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। র্যাব নিশ্চিত করেছে রুনি নিজে তার মোবাইল ফোন দিয়ে অপরপ্রান্তে নিকটতম একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এতে প্রমাণ হয় রুনি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। কললিস্টের তথ্যানুযায়ী র্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রুনি কথা বলতে বলতে মারা যান। তার পেটের বাম পাশে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল তার। সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শেরেবাংলা নগর থানার এক এসআই। কাগজপত্রে থানা পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেও শুরু থেকেই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পড়ে। একদিন পর অফিসিয়ালি মামলাটির তদন্তভার ডিবিতে ন্যস্ত করা হয়। দুই মাসের অধিক সময় ধরে তদন্ত করে ডিবি। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি ও ডিবির বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করে। কিন্তু তাদের তদন্তের ফলাফল ছিল শূন্য। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর গত বছরের এপ্রিলে র্যাবের কাছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তভার দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে সাগর-রুনির ফিঙ্গার প্রিন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত র্যাব ডিবির কাছে চায়। কিন্তু আলামত সংগ্রহকারী সিআইডি ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে ব্যর্থ হয়। এমনকি আরও গুরুত্বপূর্ণ আলামত দিতেও পারেনি। র্যাব তদন্ত ভার পাওয়ার পর সাংবাদিক সমাজ ও সাগর-রুনির পরিবারের সদস্যরাসহ অনেকেই আশা করেছিল এবার কিছু একটা হবে। এবারও আশাহত হতে হয়েছে সবাইকে। র্যাবের ১০ মাস তদন্তের পর ফলাফল শূন্য। মোবাইল ফোন কোম্পানি থেকে রুনির মোবাইল ফোনে কথোপকথোনের সেই সাড়ে ছয় মিনিট ভয়েস রেকর্ড সংগ্রহ করলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হতো বলে র্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার মতে, রুনি ওই সময় যদি সাড়ে ছয় মিনিট কথা বলে থাকেন, তাহলে তিনি তার মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কথা বলেছেন। সেই মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে ভয়েস রেকর্ড সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল। কললিস্ট তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। এরপর চাইলেও কললিস্ট অপারেটরদের পক্ষে দেয়া সম্ভব হয় না। তবে সাগর-রুনির কললিস্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে সংগ্রহ করেছে। কিন্তু তদন্তে যেটি অপরিহার্য ছিল সেই ভয়েস রেকর্ডই সংগ্রহ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে পুলিশই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে এমন অভিযোগ উঠেছে এখন। র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেছেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সাড়ে ছয় মিনিটের কথোপকথোন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে এখনও কার্যক্রম চলছে বলে তিনি জানান।